দক্ষিণ সুদানে গবাদিপশু লুটের সমন্বিত হামলায় অন্তত ৭২ জন নিহত, ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে

দক্ষিণ সুদানের উত্তরাঞ্চলীয় ওয়ারাপ রাজ্যে গবাদিপশু লুটের হামলায় অন্তত ৭২ জন নিহত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক সরকার জানিয়েছে।
সোমবারের এই হামলাকে রাজ্য কর্তৃপক্ষ ‘সমন্বিত হামলা’ বলে বর্ণনা করেছে। টঞ্জ নর্থ কাউন্টিতে দুটি সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘটিত এই হামলায় অনির্দিষ্ট সংখ্যক গবাদিপশু লুট করা হয়েছে এবং ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সংঘর্ষটি ঘটেছে ওয়ারাপ ও ইউনিটি রাজ্যের সীমান্তের কাছে আকোপ পায়াম এলাকায়। কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, লোউ আরিক সম্প্রদায়ের কিছু সদস্য আপুক পাডোচ সম্প্রদায়ের ওপর হামলা চালায়।
ওয়ারাপ রাজ্যের তথ্যমন্ত্রী উইলিয়াম ওল মায়োম বোল বলেছেন, এর আগে গত শুক্রবারের সহিংসতায় আটজন প্রাণ হারিয়েছিলেন; সোমবারের হামলা তারই ধারাবাহিকতা।
রাজ্যের গভর্নর অ্যাঞ্জেলো ঙ্গোট মায়ার নিহতদের পরিবারের প্রতি শোক জানিয়েছেন এবং আহতদের সরিয়ে নিতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, লুট করা গবাদিপশু উদ্ধার এবং হামলার পেছনে থাকা ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
রাজ্য সরকার মানবিক সহায়তা অংশীদারদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছে, যাতে খাদ্য, আশ্রয় ও ওষুধ ছাড়া থাকা ঝুঁকিপূর্ণ নারী, শিশু ও প্রবীণদের পাশে দাঁড়ানো যায়।
দক্ষিণ সুদানের অনেক সম্প্রদায়ের কাছে গবাদিপশু সম্পদ ও মর্যাদার প্রধান উৎস। তরুণদের বিয়ের যৌতুক হিসেবেও গবাদিপশু প্রয়োজন হয়। এই কারণে পশু লুটকে কেন্দ্র করে প্রতিশোধমূলক হামলার চক্র চলতে থাকে।
একই ওয়ারাপ এলাকায় গত আগস্টে এক হামলায় অন্তত ৬০ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছিলেন বলে সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী অলাভজনক সংস্থা অ্যাকলেড জানিয়েছে। গত মার্চে একই ধরনের আরেক হামলায় ৫৮ জন মারা যান এবং ৭১ জন আহত হন।
ক্রমবর্ধমান সহিংসতা থামাতে গত বছর ওয়ারাপে ছয় মাসের জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছিল।
২০১১ সালে স্বাধীনতার পর প্রথম নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ এই দেশটি; গৃহযুদ্ধের কারণে সেই নির্বাচন পিছিয়ে গেছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা আগামী ডিসেম্বরে।
গৃহযুদ্ধ শেষ হয় ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট সালভা কির ও তাঁর ডেপুটি রিয়েক মাচারের মধ্যে ভঙ্গুর এক শান্তিচুক্তির মধ্য দিয়ে। তবে দুই নেতার মধ্যে টানাপোড়েনে আরও বিলম্ব ঘটেছে: মাচারকে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ থেকে সরিয়ে গত বছর গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা তিনি অস্বীকার করেছেন। গত বছরের মার্চ থেকে তিনি রাজধানী জুবায় গৃহবন্দি আছেন।
নির্বাচনের প্রস্তুতি পিছিয়ে আছে এবং মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো প্রশ্ন তুলেছে, ভোটের আগে ভোটার নিবন্ধন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ দেশটি সম্পন্ন করতে পারবে কি না। জাতিসংঘও দক্ষিণ সুদানের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।




