বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাসের বাইরে ছুরি হামলা, পুলিশের গুলিতে কিশোর হামলাকারী নিহত

সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে ইসরায়েলি দূতাবাস পাহারায় থাকা এক পুলিশ কর্মকর্তার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালিয়েছে এক কিশোর। বুধবার মধ্যরাতের কিছু পর ঘটা এই হামলায় কর্মকর্তা মুখে আঘাত পান এবং আত্মরক্ষায় গুলি চালালে হামলাকারী ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।
সার্বিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলাকারীর হাতে দুটি ছুরি ছিল। সে ‘আল্লাহু আকবর’ বলে চিৎকার করে জেন্ডারমেরি সদস্য ওই কর্মকর্তার মুখে ছুরি চালায়। কর্মকর্তা সামান্য আহত হয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
বেলগ্রেডের হায়ার পাবলিক প্রসিকিউটর কার্যালয়ের বর্ণনা অনুযায়ী, স্থানীয় সময় রাত প্রায় ১২টা ১৫ মিনিটে কালো পোশাক পরা এক ব্যক্তি দূতাবাসের বাইরের নিরাপত্তা বুথের দরজা খোলে। ভেতরে থাকা কর্মকর্তা ডি. এস.-এর দিকে এগিয়ে গিয়ে সে তার একটি ছুরি ছুড়ে মারে, যা কর্মকর্তার বাম গালে লাগে।
প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, এরপর ওই কর্মকর্তা তার সার্ভিস অস্ত্র বের করে কয়েক রাউন্ড গুলি চালান। হামলাকারী ঘটনাস্থলেই মারা যায়।
সার্বিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইভিৎসা দাচিচ বলেছেন, কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সন্ত্রাসী হামলা হিসেবে দেখছে এবং নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীকে নজরদারিতে রেখেছিল। দাচিচের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী আইএসআইএসের সমর্থক ছিল এবং নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ওই গোষ্ঠীর প্রতীকসংবলিত কালো পতাকা প্রদর্শন করেছিল। তিনি আরও জানান, হামলাকারী সার্বিয়ারই নাগরিক এবং শাবাৎস শহরের বাসিন্দা বলে মনে করা হচ্ছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ‘সন্ত্রাসী হামলার চেষ্টার’ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি তদন্ত করছে, স্থানীয় পুলিশ হামলাকারীকে নিষ্ক্রিয় করেছে, দূতাবাসের কোনো কর্মী আহত হননি এবং গভীর রাতে ঘটনার সময় মিশনটি বন্ধ ছিল।
হামলার কয়েক ঘণ্টা পর ঘটনাস্থলের ছবিতে দেখা গেছে, ভারী অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যরা দূতাবাসের প্রবেশপথে পাহারা দিচ্ছেন।
দাচিচ জানিয়েছেন, সার্বিয়া সন্ত্রাসবাদের হুমকির মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করেছে। এর ফলে দেশজুড়ে সংবেদনশীল স্থাপনা ও জনসমাগমের জায়গাগুলোতে পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হয়েছে।
এর আগেও একই দূতাবাসে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ২০২৪ সালের জুনে ক্রসবো নিয়ে হামলা চালানো এক ব্যক্তি সেখানে পাহারারত এক সার্বিয়ান পুলিশ কর্মকর্তাকে আহত করেছিলেন; কর্মকর্তা পাল্টা গুলি চালিয়ে হামলাকারীকে হত্যা করেন।
সর্বশেষ এই হামলাটি ঘটল ইসরায়েলে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার এক দিন পর। সেই নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে কোনো পক্ষের স্পষ্ট জয়ের আভাস পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।




