রাকসুর মেয়াদ শেষ হলেও পরের নির্বাচন নিয়ে কোনো ঘোষণা নেই, শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে গত সোমবার (২৬ অক্টোবর)। তবে পরবর্তী নির্বাচন আয়োজন নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা বা দৃশ্যমান প্রস্তুতি না থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মেয়াদ তিন মাস বাড়ানো হলেও রাকসুর মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর বিধান না থাকায় বর্তমান সংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে।
৩৫ বছর পর গত বছরের ১৬ অক্টোবর রাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ২৩টি পদের বিপরীতে নয়টি প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।
নির্বাচনে ছাত্রশিবির-সমর্থিত ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোট’ সহসভাপতি (ভিপি) ও সহসাধারণ সম্পাদকসহ (এজিএস) ২০টি পদে জয়ী হয়। হল সংসদগুলোর শীর্ষ পদগুলোতেও এই প্যানেলের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেন।
নির্বাচনের ১০ দিন পর ২৬ অক্টোবর নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন। সেই হিসাব অনুযায়ী সোমবার তাঁদের মেয়াদ শেষ হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ছাত্র সংসদ ১৯৫৭ সালে ‘রাসু’ নামে যাত্রা শুরু করে। সামরিক শাসনের কারণে ১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সাল পর্যন্ত এর কার্যক্রম বন্ধ ছিল। পরে ১৯৬২ সালে নাম পরিবর্তন করে ‘রাকসু’ করা হয়। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত মোট ১৪টি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপর দীর্ঘ ৩৫ বছর রাকসুর কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
সমাজকর্ম বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আরিফ আলভি বলেন, রাকসু নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হলেও পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে কোনো হালনাগাদ তথ্য নেই এবং এ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, রাকসু কোনো দয়া বা দান নয়, এটি শিক্ষার্থীদের অধিকার, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটায়।
রাকসু এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাকসুকে বাস্তবে রূপ দিতে পারা এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, বাকি খাওয়া কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর ঊর্ধ্বে থেকে মেয়াদ শেষ করতে পারাটাই তাঁদের আসল সফলতা। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর যাত্রা শুরু হওয়ায় পূর্ব অভিজ্ঞতা ও অভিজ্ঞ পরামর্শদাতার অভাবে শুরুতে কিছুটা বেগ পেতে হয়েছে।
সালমান সাব্বির আরও বলেন, পরবর্তী রাকসু নির্বাচন ও নতুন সংসদের পথ সুগম করতে তাঁরা শুরু থেকেই কাজ করে আসছেন। সর্বশেষ অধিবেশনে বর্তমান কোষাধ্যক্ষকে গঠনতন্ত্র সংস্কার ও নির্বাচনি তফসিল প্রণয়নসহ প্রয়োজনীয় বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে তাঁর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, পরবর্তী রাকসু অবশ্যই আদায় করে নিতে হবে এবং এর কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো টালবাহানা না করে পরবর্তী নির্বাচন দেবে বলে তাঁরা বিশ্বাস করতে চান এবং নিজেদের অবস্থান প্রশাসনকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন।
রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ বলেন, উপাচার্য জানিয়েছেন পরবর্তী নির্বাচন তিনি দেবেন। কিন্তু কার্যকর সিদ্ধান্ত বা কোনো পদক্ষেপ এখন পর্যন্ত দেখা যাচ্ছে না। এতে নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে হবে কি না, নাকি প্রশাসন সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় থাকবে, তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, গতবার শিক্ষার্থীরা চারবার আন্দোলন করে নির্বাচন আদায় করে নিয়েছিল। এবার যাতে তা করতে না হয়, তা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এরপরও টালবাহানা হলে শিক্ষার্থীদের নিয়ে রাকসু আদায় করে নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
রাকসু কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সেতাউর রহমান বলেন, রাকসু নির্বাচন নিয়ে এখনো উপাচার্যের কাছ থেকে কোনো বার্তা পাননি। গঠনতন্ত্রে নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরুর সময়সীমা সম্পর্কে স্পষ্ট উল্লেখ নেই। নির্বাচন আসন্ন হলে এতদিনে তফসিল ঘোষণা করা হতো। ভোট করার জন্য যে প্রস্তুতি দরকার, তা এই মুহূর্তে নেই বলেও তিনি বলেন।
উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, গঠনতন্ত্রে মেয়াদ বাড়ানোর কথা নেই, সে জন্য রাকসুর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তিনি বলেন, রাকসু ৩৫ বছর পর হয়েছে, তাঁরাও চান রাকসু হোক। পরিবেশ-পরিস্থিতি বুঝে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি হলে তখনই এর আয়োজন করা হবে।




