স্পেনে ট্রেন সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত: তদন্ত শুরু, রেল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন, যাত্রীদের বর্ণনায় ভয়াবহ মুহূর্ত
স্পেনে বুধবারের উচ্চগতির ট্রেন সংঘর্ষে অন্তত ৬৮ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশটির রেল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্তৃপক্ষ দুর্ঘটনার কারণ জানতে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে। এক বছরের মধ্যে এটি স্পেনের দ্বিতীয় প্রাণঘাতী উচ্চগতির ট্রেন দুর্ঘটনা।
দুর্ঘটনাকবলিত ট্রেনের যাত্রী ও সাংবাদিক রবার্তো গোমেজ সেই মুহূর্তের বর্ণনা দিয়েছেন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দ্রুতগতির ট্রেনটি থেমে যাওয়ার সময় তিনি ঘুমিয়ে ছিলেন। সে সময় যাত্রীদের জানানো হয় যে লাইনে জট রয়েছে। এর কিছুক্ষণ পর ট্রেনটি পুনরায় চলতে শুরু করার পরপরই আকস্মিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওন্দা সেরো রেডিওর বরাতে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
দুর্ঘটনার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে রবার্তো গোমেজ বলেন, ‘ধাক্কাটি ছিল ভয়াবহ। আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না, বগিটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ভেঙে যাওয়া বগির ভেতরে সব স্যুটকেস ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।’
গোমেজ নিজে সামান্য আহত হন। তিনি জানান, এক যাত্রী তার ওপর ছিটকে পড়েন এবং ওই যাত্রীর মাথায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা বুকে ও পাঁজরে গুরুতর আঘাত পাওয়া মানুষদের সহায়তা করতে পেরেছি।’
পরিস্থিতি অত্যন্ত বিশৃঙ্খল ও মানসিকভাবে কষ্টদায়ক ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, ঘটনার কয়েক মিনিট পর তিনি এবং অন্যান্য যাত্রীরা শেষ পর্যন্ত ট্রেনের জানালা দিয়ে বাইরে বের হতে সক্ষম হন।
এদুয়ার্দা নামের একজন যাত্রী তার দুটি বিড়াল নিয়ে ওই ট্রেনে ভ্রমণ করছিলেন। তিনি স্প্যানিশ রেডিও অনুষ্ঠান ‘হয় পর হয়’কে জানান, সংঘর্ষের ধাক্কায় তিনি সামনে ছিটকে পড়েন এবং তার আসনের সামনের টেবিলটি ভেঙে যায়। আশপাশের অনেক যাত্রী আঘাত পান।
ট্রেন থেকে বেরিয়ে আসার পর এদুয়ার্দা চিৎকারের শব্দ শুনতে পান এবং একটি বগিতে আগুন জ্বলতে দেখেন। তিনি আরও জানান, ট্রেনের নিচে নিহত ব্যক্তিদেরও তিনি দেখতে পান।
মিগেল আঞ্জেল পেরেজ নামে আরেক যাত্রী স্প্যানিশ টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘লা ওরা দে লা ১’-কে জানান, তিনি একটি ভয়ংকর সংঘর্ষের শব্দ শুনতে পান। বগিটি আংশিকভাবে উল্টে গিয়েছিল।
পেরেজ বলেন, ‘আমরা ট্রেনটিকে নড়তে, লাইনচ্যুত হতে এবং একদিকে হেলে পড়তে অনুভব করেছি। কয়েক সেকেন্ড ছিল ভয়ংকর।’
কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে এখন দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, আর এই ঘটনা স্পেনের রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।


