বরিশালের বাবুগঞ্জে নারী ভুয়া চিকিৎসক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় সনদ ছাড়া চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে এক নারী ভুয়া চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় সনদ ও প্যাথলজিস্ট ছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার অভিযোগে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকপক্ষকে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের পৃথক দুটি অভিযানে এই জরিমানা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বাবুগঞ্জ উপজেলার মাধবপাশা বাজারে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৫৩ ধারায় এই অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, এনএসআই সদস্যরা ছদ্মবেশে রোগী সেজে মাধবপাশা বাজারে তাসলিমা আক্তার আন্নি নামের এক নারীর চেম্বারে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে এমবিবিএস বা বিডিএস সনদ ছাড়াই মা ও শিশুবিষয়ক রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছিলেন। এ ছাড়া তাঁর নিজস্ব ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। এসব অপরাধে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
পরে একই বাজারের পল্লবী ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে প্রয়োজনীয় সনদ ও প্যাথলজিস্ট ছাড়াই বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছিল এবং পরীক্ষাগারের পরিবেশ যথাযথ ছিল না বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার মো. সাব্বির সরদারকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, এনএসআই সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম গোপনে পর্যবেক্ষণ করার পর উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এই অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে এনএসআই সদস্য, বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও বিমানবন্দর থানা-পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ১৮ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে বাবুগঞ্জ উপজেলার কলেজ গেট এলাকার একটি ফার্মেসিতে অভিযান চালানো হয়েছিল। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে ওই অভিযানে ল্যাপটপ ও বিশেষ ডিভাইস ব্যবহার করে রোগ নির্ণয়ের দাবি, ব্যবস্থাপত্রে চিকিৎসক পরিচয় ব্যবহার এবং ভুয়া সনদ দেখিয়ে চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগে আলীমুল ইসলাম নামের এক কথিত ভুয়া চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। ফলে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে একই উপজেলায় আবার ভুয়া চিকিৎসকের সন্ধান মিলল।



