যুক্তরাজ্যে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা: ‘কর্তৃত্ববাদের দিকে ঝোঁক’ বললেন সুইডিশ শিক্ষাবিদ আন্দ্রেয়াস মালম

সুইডিশ জলবায়ু শিক্ষাবিদ আন্দ্রেয়াস মালম তাঁর ওপর যুক্তরাজ্য সরকারের আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞাকে ‘কর্তৃত্ববাদের দিকে ঝোঁক’ বলে নিন্দা করেছেন। ‘হাউ টু ব্লো আপ আ পাইপলাইন’ বইয়ের লেখক মালম বলেছেন, তাঁর ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমোদন (ইটিএ) বাতিলের কারণ সম্পর্কে যুক্তরাজ্যের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ তাঁকে ‘অন্ধকারে রেখেছে’।
তাঁকে শুধু জানানো হয়েছে, যুক্তরাজ্যে তাঁর উপস্থিতি ‘জনস্বার্থের অনুকূল বলে বিবেচিত নয়’। শুক্রবার রেডিও ফোরের ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার একমাত্র যুক্তিসঙ্গত ব্যাখ্যা হতে পারে আগামী বুধবার লন্ডনে একটি সম্মেলনে তাঁর নির্ধারিত উপস্থিতি — যেখানে তাঁর সঙ্গে একই মঞ্চে থাকার কথা নিষিদ্ধ সংগঠন প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা হুদা আম্মোরির।
মালম বলেন, ‘আমি এর বাইরে আর কোনো ব্যাখ্যা দেখতে পাচ্ছি না... এতে করে আমি কোনোভাবে সন্ত্রাসী বা সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাই, আর সে কারণে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণে বাধা পাই। এটা বেশ কলঙ্কজনক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি যা ভোগ করছি, তা একটি বড় প্রবণতার খুব ছোট অংশ: কর্তৃত্ববাদের দিকে এই ঝোঁক, যা প্যালেস্টাইন আন্দোলন, জলবায়ু আন্দোলন এবং এই পৃথিবী নিয়ন্ত্রণকারী ধ্বংসাত্মক শক্তির বিরোধীদের লক্ষ্যবস্তু করছে। এটা খুব দুঃখজনক বিষয়।’
মালম নিশ্চিত করেছেন, ট্রিবিউন পত্রিকার আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে তিনি ভিডিও সংযোগে বক্তব্য দেবেন। অনুষ্ঠানে ইরান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিল বলে তিনি জানান; তাঁর ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্যে আগ্রাসনের চালিকাশক্তি নিয়ে আলোচনাই এখানে ঠেকানো হচ্ছে।
বিবিসির সাক্ষাৎকারে তিনি প্যালেস্টাইন অ্যাকশনকে সমর্থন বা অর্থায়নে সহায়তার কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, প্যালেস্টাইন অ্যাকশনের সঙ্গে তাঁর একমাত্র যোগসূত্র আম্মোরি নামের ব্যক্তি নিজে; তাঁর প্রশ্ন — সংসর্গের দোষের এই যুক্তি চলতে থাকলে তাঁর সঙ্গে কথা বলা ব্যক্তিও কি জনস্বার্থের জন্য হুমকি হয়ে যাবেন, এর শেষ কোথায়?
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলাকে ‘মুক্তির কর্ম’ হিসেবে বর্ণনা করাই নিষেধাজ্ঞার কারণ কি না — এমন প্রশ্নে মালম বলেন, ‘হতে পারে। কিন্তু ফিলিস্তিন ও ৭ অক্টোবর নিয়ে আমার মতামত দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যেই আছে। আমি সবশেষ মে মাসে যুক্তরাজ্যে ছিলাম।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ব্যক্তিগত মামলা নিয়ে আলোচনা করতে পারে না। তবে একটি সূত্র জানিয়েছে, ‘জনস্বার্থের অনুকূল নয়’ ভিত্তিতে ইটিএ প্রত্যাখ্যান বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় শুধু ওই ব্যক্তি যুক্তরাজ্যের সমাজের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারেন কি না, সেই মূল্যায়নের ভিত্তিতে।
নিষেধাজ্ঞার ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। লেখক স্যালি রুনি একে বলেছেন ‘সাংস্কৃতিক আত্মক্ষতির দুঃখজনক ও ভয়ংকর কাজ’। গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কি এক্সে লিখেছেন, এটি মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর অসাধারণ আক্রমণ।
লেবার সংসদ সদস্য ক্লাইভ লুইস বলেন, ‘যেকোনো সরকার যখন রাজনৈতিক মতের কারণে শিক্ষাবিদদের বাধা দিতে শুরু করে, তখন সতর্কঘণ্টা বাজা উচিত। মন্ত্রীদের কাছে মালম বিপজ্জনক হওয়ার প্রমাণ থাকলে তা হাজির করুন। অন্যথায় এটি জননিরাপত্তার ছদ্মবেশে রাজনৈতিক সেন্সরশিপের মতো দেখায়।’ আম্মোরি নিজে এই নিষেধাজ্ঞাকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ‘ঘৃণ্য আক্রমণ’ বলে তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
সাবেক শ্যাডো চ্যান্সেলর জন ম্যাকডোনেল বলেন, সেন্সরশিপ নিয়ে আলোচনা করতে আসতে চাওয়া একজনকে কার্যত সেন্সর করার বিদ্রূপটি সরকারের কারও বোঝা উচিত ছিল; তাঁর ভাষায়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নীতি প্রণয়ন ‘বিপজ্জনক প্রহসনে’ পরিণত হয়েছে। ‘হাউ টু ব্লো আপ আ পাইপলাইন’ বইটি একই নামের একটি চলচ্চিত্রের অনুপ্রেরণা; বইটিতে নাশকতা ও সম্পত্তি ধ্বংসকে সক্রিয়তাবাদের নৈতিক ও কৌশলগতভাবে যুক্তিসঙ্গত রূপ বলে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।




