ওলেশকি থেকে সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দারা বেলারুশের গোমেলে পৌঁছেছেন, শনিবারই ইউক্রেনে ফেরার কথা

রাশিয়া-অধিকৃত বিধ্বস্ত শহর ওলেশকি থেকে সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দারা বেলারুশে পৌঁছেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার পরের দিকেই তারা ইউক্রেনের ভূখণ্ডে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শুক্রবার একটি স্থানীয় যুদ্ধবিরতির মধ্যে দিয়ে এই বাসিন্দাদের ওলেশকি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ওই যুদ্ধবিরতিটি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায়।
বেলারুশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এবং একজন জ্যেষ্ঠ ইউক্রেনীয় কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওলেশকির বাসিন্দাদের বহনকারী বিমানগুলো শনিবার সকালে বেলারুশের গোমেল শহরে অবতরণ করে।
ইউক্রেনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ডেভিড আরাখামিয়া বলেন, ‘শেষ, চতুর্থ বিমানটি গোমেলে অবতরণ করেছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ওলেশকি থেকে সরিয়ে নেওয়া সব ইউক্রেনীয় নাগরিক ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ইউক্রেনের ভূখণ্ডে থাকবেন।’
বেলারুশের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বেলতা জানিয়েছে, ওলেশকির বাসিন্দাদের একটি বাস কনভয় গোমেল বিমানবন্দর ছেড়ে ইউক্রেন সীমান্তের দিকে রওনা হয়েছে।
সরিয়ে নেওয়া বাসিন্দাদের যাত্রাপথ ছিল দীর্ঘ। ইউক্রেনীয় সামরিক অবস্থান ওলেশকি থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার (৩ দশমিক ১ মাইল) দূরে হলেও তাদের প্রথমে রাশিয়া-অধিকৃত এলাকা হয়ে দক্ষিণ রাশিয়ার আনাপা শহরে যেতে হয়, সেখান থেকে তারা বিমানে গোমেলে যান। বাসিন্দাদের বহনকারী কনভয়টি প্রথমে ক্রিমিয়া হয়েও গেছে।
খেরসন ফ্রন্টলাইন অঞ্চলজুড়ে মঙ্গলবার থেকে একটি মানবিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার আক্রমণের পর চার বছরের মধ্যে এই এলাকায় এটাই প্রথম কয়েক দিনের শান্তি।
এই যুদ্ধবিরতির কারণেই ওলেশকি থেকে বের হওয়ার রাস্তাটি মাইনমুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। যুদ্ধবিরতিটি রোববার ১ নভেম্বর শেষ পর্যন্ত বহাল থাকবে।
শুক্রবার বাসিন্দাদের শহর ছাড়ার জন্য চার ঘণ্টার একটি সুযোগ দেওয়া হয়। এরপর বিকেলে ৭৫০ জনের জায়গা সংবলিত ২৫টি বাসের একটি কনভয় শহর ছাড়ে। সীমিত চলাচলক্ষমতা সম্পন্ন মানুষদের জন্য কনভয়ের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সও ছিল।
তবে কয়েকশ মানুষ বিধ্বস্ত শহরটিতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির সংকট থাকা সত্ত্বেও তারা ওলেশকি ছাড়েননি।
ইউক্রেনের মানবাধিকারবিষয়ক ন্যায়পাল দিমিত্রো লুবিনেৎস শুক্রবার সকালে বলেন, যারা থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা ‘সব প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা পাবেন’।
লুবিনেৎস শুক্রবার তার রুশ প্রতিপক্ষ ইয়ানা লানত্রাতোভার সঙ্গে একসঙ্গে ওলেশকি সফর করেন। তারা রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আরমিয়ানস্ক থেকে রওনা হয়েছিলেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়া-অধিকৃত ইউক্রেনীয় এলাকা সফরকারী প্রথম ইউক্রেনীয় কর্মকর্তা লুবিনেৎস।
ওলেশকি যুদ্ধবিরতির জন্য লানত্রাতোভার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন হয়েছে, যা জীবন বাঁচানোর স্বার্থেই করেছেন বলে লুবিনেৎস জানিয়েছেন। তবে রাশিয়ার দখলদার শক্তির একজন প্রতিনিধির পাশে তাকে দাঁড়াতে দেখে ইউক্রেনের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
রাশিয়া বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, যেসব বাসিন্দা শহর ছাড়তে চান না, তাদের জন্য খাবার, ওষুধ, স্বাস্থ্যসামগ্রী এবং জেনারেটরের জ্বালানিসহ ‘কয়েক ডজন টন’ ত্রাণসহায়তা তারা প্রস্তুত রেখেছে।



