পুতিনের সম্ভাব্য জি-২০ প্রত্যাবর্তন যুদ্ধাপরাধকে স্বাভাবিক করে তুলবে: কায়া কাল্লাস
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতিবিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস শনিবার বলেছেন, ডিসেম্বরে ফ্লোরিডায় অনুষ্ঠেয় জি-২০ সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিনের সম্ভাব্য ফেরা রাশিয়ার যুদ্ধাপরাধকে স্বাভাবিক করে তোলার ঝুঁকি তৈরি করবে।
ব্লুমবার্গ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাল্লাস বলেন, ‘রাশিয়াকে এসব আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরিয়ে আনাকে স্বাভাবিক করা মানেই ইউক্রেনে প্রতিদিন ঘটে চলা যুদ্ধাপরাধকে স্বাভাবিক করে তোলা।’
তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ জাতিসংঘ সনদের সেই নীতিমালার সঙ্গে সাংঘর্ষিক, যাতে ওই টেবিলে বসা সব দেশই স্বাক্ষর করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আয়োজনে ডিসেম্বরের ওই সম্মেলনে পুতিন আদৌ যোগ দেবেন কি না, তা তিনি এখনো নিশ্চিত করেননি।
পুতিন সর্বশেষ সরাসরি কোনো জি-২০ বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন ২০১৯ সালে। সেটি ছিল ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর তিন বছর আগে।
আটলান্টায় জি-২০ মন্ত্রী পর্যায়ের এক সমাবেশে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের উপস্থিতি নিয়ে ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে বাড়তে থাকা ক্ষোভের মধ্যেই কাল্লাসের এই মন্তব্য এলো।
ওই বৈঠকের আয়োজক যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রথাগত পারিবারিক ছবি তোলার আয়োজন বাতিল করে দেন, কারণ ইউরোপীয় কর্মকর্তারা লাভরভের পাশে দাঁড়াতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।
সাক্ষাৎকারে কাল্লাস বলেন, ‘আমরা এসব মঞ্চে তাঁর [লাভরভের] পাশে দাঁড়াতে চাই না’, কারণ তাঁর ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
তবে তিনি এ-ও বলেন, লাভরভের উপস্থিতির অর্থ হলো ‘আমরা রাশিয়ার এসব মিথ্যার সঙ্গে সঙ্গেই লড়তে পারি’।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনের কাছে ৫০০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর বিক্রির সিদ্ধান্তকে কাল্লাস ‘খুবই ইতিবাচক অগ্রগতি’ বলে অভিহিত করেছেন। একই সঙ্গে তিনি রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করতে মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এস্তোনিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাল্লাস ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে সোচ্চার রাশিয়া-সমালোচকদের একজন হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি পেন্টাগনের পক্ষ থেকে মিত্রদের, বিশেষ করে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোকে, ক্রেমলিনের সমালোচনা কমিয়ে আনার আহ্বান জানানো হয়েছে বলে প্রকাশিত খবরও প্রত্যাখ্যান করেন।
এ বিষয়ে কাল্লাস বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, হুমকি নিয়ে কথা না বললেই কি হুমকি চলে যাবে? আমার মনে হয়, তা যাবে না।’


