মিঠামইনে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে হামলায় আহত ১৫, আটক ১
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায় বিয়েবাড়ি থেকে নববধূকে নিয়ে ফেরার পথে হামলার ঘটনায় গোলাপ মিয়া (৩৫) নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার কাটখাল এলাকার সাহেবনগর থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
আটক গোলাপ মিয়া কাটখাল ইউনিয়নের চরকাটখাল এলাকার মৃত কালাচানের ছেলে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হামলার ঘটনাটি ঘটে এর আগে শনিবার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার কাটখাল গরুর হাট এলাকায়। এতে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। কনের পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের মারধরের পাশাপাশি তাঁদের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগও উঠেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজোড় ইউনিয়নের রানীগঞ্জ এলাকার স্বপন মিয়ার সঙ্গে বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের জোনাকি আক্তারের বিয়ে হয়। শনিবার দুপুরে বিয়েবাড়িতে খাওয়াদাওয়া শেষে নবদম্পতিকে নিয়ে কনের স্বজনেরা বাড়ি ফিরছিলেন।
পথে কাটখাল গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে চরকাটখাল এলাকার অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া তাঁদের সঙ্গে থাকা এক স্বজনকে ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে দয়াল মিয়া ও তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন অটোরিকশাচালক তাঁদের ওপর হামলা চালান। এতে কনের পরিবারের ১৪ জন আহত হন।
খবর পেয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। এ সময় হামলাকারীরা পুলিশের ওপরও হামলা চালালে মো. কাউসার মিয়া নামে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। তিনি কাটখাল পুলিশ ফাঁড়িতে কর্মরত।
বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করেন, অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়া গরুর হাট এলাকার অটোরিকশা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন এবং এ কারণে এলাকায় প্রভাব খাটান। তাঁর অভিযোগ, দয়াল মিয়ার নেতৃত্বেই কনের স্বজনদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং এ সময় তাঁদের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নেওয়া হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দয়াল মিয়ার স্ত্রী রূপ নাহার। তাঁর দাবি, বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে সাইড দেওয়ার জন্য তাঁর স্বামী অটোরিকশার হর্ন বাজান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাইজচরের লোকজন তাঁর স্বামীর ওপর হামলা চালান। তাঁর স্বামীকেও হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল গাফফার বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে দয়াল মিয়া ও তাঁর লোকজন পুলিশের ওপরও হামলা করেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে রাতেই অভিযান শুরু করে পুলিশ। পরে সাহেবনগর এলাকা থেকে গোলাপ মিয়াকে আটক করা হয়। অন্যদের আটকে অভিযান চলছে। তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।



