২৩ বছর পর সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর উত্তর কোরিয়া সফর, পিয়ংইয়ংয়ে ফের চালু হলো কূটনৈতিক দপ্তর

সুইজারল্যান্ড আনুষ্ঠানিকভাবে উত্তর কোরিয়ায় তার কূটনৈতিক দপ্তর আবার চালু করেছে। একই সঙ্গে ইনিয়াজিও ক্যাসিস ২০০৩ সালের পর প্রথম সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দেশটি সফর করেছেন।
ক্যাসিস ২৯ ও ৩০ অক্টোবর পিয়ংইয়ং সফর করেন এবং সেখান থেকে সিউলে যান। শনিবার সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই সফরের লক্ষ্য ছিল উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সংলাপ পুনরুদ্ধার করা, যাতে বিভক্ত কোরীয় উপদ্বীপের দুই পক্ষের সঙ্গেই যোগাযোগ রাখা যায়।
দপ্তরটি ১৯ অক্টোবর থেকে আবার কার্যক্রম শুরু করেছে। এটি বেইজিংয়ে সুইস দূতাবাসের অধীনে কাজ করবে; উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে কূটনৈতিক ও কনস্যুলার সম্পর্কের দায়িত্ব সেই দূতাবাসেরই। পিয়ংইয়ংয়ে সুইজারল্যান্ডের আগের দপ্তরটি মানবিক সহযোগিতা নিয়ে কাজ করত এবং ২০২০ সালে কোভিড-১৯ মহামারির সময় তা বন্ধ হয়ে যায়।
দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে ১৯৭৪ সাল থেকে, তবে নিয়মিত রাজনৈতিক পরামর্শ ২০১৯ সালের পর বন্ধ হয়ে যায়।
বার্ন বলেছে, এই দপ্তরের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ড সরাসরি উত্তর কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করতে এবং অঞ্চলের পরিস্থিতি অনুসরণ করতে পারবে।
সফরে ক্যাসিস উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছোয়ে সন হুই এবং ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সচিব জো ইয়ং ওনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
ছোয়ের সঙ্গে আলোচনায় রাজনৈতিক সংলাপ পুনরুদ্ধার, কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা এবং ইউরোপ ও এশিয়ার বৃহত্তর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা হয়।
শনিবার সুইস সংবাদ সংস্থা কিস্টোন-এটিএসকে ক্যাসিস বলেন, উপদ্বীপে উত্তেজনা কমাতে সংলাপে সহায়তার প্রস্তাব তিনি দিয়েছেন এবং প্রস্তাবটি ভালোভাবে গৃহীত হয়েছে বলে মনে হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ শনিবার জানায়, দুই মন্ত্রী ‘বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে’ কূটনৈতিক সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনার বিস্তারিত বিবরণ সংস্থাটি দেয়নি।
দপ্তরটি পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে বৃহত্তর ইউরোপীয় সংলাপে সহায়তা করতে পারে কি না—ইউরোনিউজের এই প্রশ্নে সুইস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, শনিবারের বিবৃতির বাইরে বিভাগটির আর কিছু যোগ করার নেই।
ক্যাসিস ৩০ ও ৩১ অক্টোবর সিউল সফর করেন এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা উই সুং-লাক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জং ইয়ন-দুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি জংকে পিয়ংইয়ং আলোচনার বিষয়ে অবহিত করেন। সিউলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জং আশা প্রকাশ করেন যে সুইস দপ্তরটি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যোগাযোগে দক্ষিণ কোরিয়াকে সহায়তা করবে।
এই সফর এসেছে নতুন সামরিক উত্তেজনার মধ্যে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়া বৃহস্পতিবার সাগরের দিকে প্রায় ১০টি স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে—এর এক দিন আগেই সীমান্তে আকস্মিক সংঘর্ষ এড়াতে সামরিক আলোচনার আহ্বান নতুন করে জানিয়েছিল সিউল। রবিবার পৃথক এক বিবৃতিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, আটলান্টায় জি২০ বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন দুই কোরিয়ার মধ্যে সংলাপের পক্ষে সমর্থন চেয়েছেন।
সুইজারল্যান্ড ১৯৫৩ সাল থেকে পানমুনজমে নিরপেক্ষ দেশগুলোর তদারকি কমিশনের মাধ্যমে কোরীয় যুদ্ধ থামানো যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে সহায়তা করে আসছে। ক্যাসিস সুইস প্রতিনিধিদলের প্রধানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।



