দুই নম্বর ওহাইও স্টেটকে ৩০–১৮ ব্যবধানে হারিয়ে চমক ইউএসসির, ম্যাচশেষে রাইলি–বিয়র্ক বাকবিতণ্ডা

যুক্তরাষ্ট্রের কলেজ ফুটবলে বড় চমক উপহার দিয়েছে ইউএসসি ট্রোজান্স। শনিবার (৩১ অক্টোবর) লস অ্যাঞ্জেলেস মেমোরিয়াল কলিসিয়ামে তারা ৩০–১৮ ব্যবধানে হারিয়েছে দেশের দুই নম্বর দল ওহাইও স্টেট বাকাইজকে।
মাত্র এক সপ্তাহ আগেই পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ উল্টো। উইসকনসিন ব্যাজার্সের মাঠে ফেভারিট হিসেবে খেলতে গিয়ে ইউএসসি হেরেছিল বাজেভাবে; প্রশিক্ষক লিংকন রাইলির কোচিং ক্যারিয়ারে সেবারই প্রথম তার কোনো দল মাত্র সাত পয়েন্ট স্কোর করে।
ওই ম্যাচে সিনিয়র কোয়ার্টারব্যাক জেডেন মাইয়াভা একাধিক ইন্টেনশনাল গ্রাউন্ডিং পেনাল্টি করেন এবং দুটি ইন্টারসেপশন ছোড়েন। দলের নেট রাশিং ইয়ার্ড ছিল মাইনাস ১৭। বাতাসের বিপরীতে ৫৮ গজের ফিল্ড গোলের ব্যর্থ চেষ্টাও উইসকনসিনকে ভালো অবস্থান থেকে স্কোরের সুযোগ করে দেয়।
ওই হারের পর রাইলির ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তীব্র হয়। গুঞ্জন ওঠে, তাঁর কথিত ৭ কোটি ডলারের বাইআউট পরিশোধের তহবিল জোগাড়ের প্রস্তুতি শুরু করেছে ইউএসসির অ্যাথলেটিক বিভাগ; সম্ভাব্য নতুন কোচের তালিকা নিয়েও আলোচনা চলছিল।
শনিবারের ম্যাচে ওহাইও স্টেট খেলেছে তাদের বিকল্প কোয়ার্টারব্যাক লুক ফাহিকে নিয়ে; দলটির রয়েছে দেশের সেরা তিন রক্ষণের একটি এবং কোচ রায়ান ডে-র অধীনে বড় ম্যাচের অভিজ্ঞতা। তবু মাঠে আধিপত্য ছিল ইউএসসিরই। ওহাইও স্টেট বল দখলে ও মোট ইয়ার্ডে এগিয়ে থাকলেও শেষ দিকে পাওয়া সুযোগগুলোই ছিল তার বড় অংশ; গোললাইনের এক গজের ভেতর থেকে প্রথম সুযোগ পেয়েও তারা এন্ডজোনে পৌঁছাতে পারেনি।
খেলার দ্বিতীয় প্লেতেই ফ্রেশম্যান ট্রেন্ট মোসলি একটি স্ক্রিন পাস ধরে লম্বা টাচডাউন করেন। টাইট এন্ড মার্ক বোম্যান এক ওহাইও স্টেট ডিফেন্ডারকে লাফিয়ে টপকে ট্যাকল ভেঙে বড় ক্যাচ অ্যান্ড রান উপহার দেন। সমালোচিত ইউএসসি রক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্নওভার আদায় করে এবং একটি ফাম্বলও জোর করে বের করে আনে।
ম্যাচ শেষে সুড়ঙ্গপথে উত্তেজনা ছড়ায়। পরিবার ও নিরাপত্তারক্ষীসহ ওই এলাকা দিয়ে যেতে চাইলে ওহাইও স্টেটের এক কর্মী রাইলিকে আটকে দেন; এরপর অ্যাথলেটিক পরিচালক রস বিয়র্ককে রাইলির দিকে ইশারা করে কিছু বলতে দেখা যায়। রাইলি ক্ষুব্ধ হয়ে তীব্র ভাষায় জবাব দেন; আরেকটি কোণ থেকে পাওয়া ছবিতে বিয়র্ককে কিছু বলতে দেখা গেলেও তা স্পষ্ট শোনা যায়নি।
সংবাদ সম্মেলনে রাইলি একটি লিখিত বিবৃতি পড়ে শোনান। তিনি বলেন, ‘এই কর্মসূচি গড়ে উঠেছে ভেতরের আনন্দে, বাইরের প্রশংসায় নয়। এই জয় সব কর্মী, খেলোয়াড়, নেতা, প্রশাসন — এই দেয়ালের ভেতরের সবার জন্য। ম্যাচের আগেই বলেছিলাম, এই কাজের জন্য আমিই সঠিক মানুষ; সেই মানুষগুলো তা জানলেই আমার জন্য যথেষ্ট।’ বক্তব্য শেষ করেন তিনি ‘আদিওস’ বলে।
সপ্তাহের মাঝামাঝি অন্য এক সংবাদ সম্মেলনেও রাইলি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, লস অ্যাঞ্জেলেসই তাঁর থাকার জায়গা।
এই জয়ে ইউএসসির রেকর্ড দাঁড়াল ৬–২। তাদের আগের হারগুলোর একটি ছিল ওরেগনের বিপক্ষে ৪১–২৭ ব্যবধানে। সামনে দলটির জন্য অপেক্ষা করছে কঠিন সূচি — আগামী সপ্তাহে ব্লুমিংটনে ইন্ডিয়ানা হুসিয়ার্সের মাঠে খেলা, আর মৌসুমের শেষ ম্যাচে রোজ বোলে এখনকার পাঁচ নম্বর দল ইউসিএলএ ব্রুইনসের মুখোমুখি হওয়া।
শেষ তিন ম্যাচের সবকটিতে জিতলে কলেজ ফুটবল প্লে-অফে জায়গা প্রায় নিশ্চিত হবে ইউএসসির, কারণ তখন শীর্ষ পাঁচ দলের বিপক্ষে তিনটি জয় থাকবে তাদের নামে।




