‘ফ্রিজ সিগারেট’ ডাকনামে আপত্তি নেই কোকা-কোলা সিইওর, তৃতীয় প্রান্তিকে ডায়েট কোকের বিক্রি বেড়েছে ৬ শতাংশ

ডায়েট কোক আবার আলোচনার কেন্দ্রে। সামাজিক মাধ্যমে এক বছর আগে পাওয়া ‘ফ্রিজ সিগারেট’ ডাকনাম নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন কোকা-কোলার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হেনরিক ব্রাউন। ইয়াহু ফাইন্যান্সকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, এই ভাইরাল ডাকনামে তিনি মোটেও বিরক্ত নন।
ডাকনামটি তাঁর ভালো লাগে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ব্রাউন বলেন, ভোক্তারা পণ্যটিকে যে নামে ডাকতে চান, সে নামেই ডাকেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমরা ডায়েট কোককে সেভাবে তুলে ধরি না।’ তাঁর ভাষায়, এটি একটি চমৎকার স্বাদের পণ্য, যা ভোক্তার সঙ্গে খুব অনন্যভাবে যুক্ত হয়।
ব্রাউন কোকা-কোলার সামাজিক মাধ্যম ও ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের দিকেও ইঙ্গিত করেছেন, যদিও তিনি সেই উদ্যোগগুলোকে সরাসরি এই ভাইরাল ডাকনামের সঙ্গে যুক্ত করেননি। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের পরিকল্পনায় ডিজিটাল প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) যুক্ত করছি এবং ভোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।’ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়ে কোম্পানি খুবই উচ্ছ্বসিত বলেও তিনি জানান।
কোম্পানির সর্বশেষ আয়ের হিসাবেও ডায়েট কোকের গতি বাড়ার চিত্র মিলেছে। ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত তৃতীয় প্রান্তিকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ডায়েট কোক ও কোকা-কোলা লাইটের বৈশ্বিক বিক্রির পরিমাণ বেড়েছে ৬ শতাংশ, যার পেছনে উত্তর আমেরিকা ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রবৃদ্ধি ভূমিকা রেখেছে।
এই ধারা বছরের আগের প্রান্তিকগুলোতেও ছিল। প্রথম প্রান্তিকে বিক্রির পরিমাণ বেড়েছিল ৬ শতাংশ এবং দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৭ শতাংশ। অথচ ২০২৫ সালে সারা বছর ধরে এই ব্র্যান্ডগুলোর বৈশ্বিক বিক্রির পরিমাণ ছিল প্রায় স্থির।
তবে ভাইরাল ডাকনামটি ডায়েট কোকের জনপ্রিয়তার পেছনের অভ্যাস নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। ‘ফ্রিজ সিগারেট’ প্রবণতা ঘিরে আলোচনায় উঠে এসেছে, অনেক ভোক্তা মানসিক চাপ সামলাতে এই পানীয়ের ওপর আবেগগতভাবে নির্ভর করেন কি না, সেই প্রশ্নও।
নিউইয়র্ক সিটির মনোচিকিৎসক জোনাথন অ্যালপার্ট এর আগে ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেছিলেন, এই প্রবণতার আকর্ষণের একটি অংশ লুকিয়ে আছে ডায়েট কোক পানের সংবেদনশীল অভিজ্ঞতায়। তাঁর ভাষায়, খটখটে শব্দ, কার্বনেশন আর ঠান্ডা ঝাঁকুনি দিনের চাপের বা পরিবর্তনের মুহূর্তে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে উদ্দীপনা বা স্বস্তি দেয়।
অ্যালপার্ট ডায়েট কোককে একটি সম্ভাব্য ‘আবেগগত বিকল্প’ হিসেবেও বর্ণনা করেছেন, তবে এটিকে চাপ সামলানোর উপায় হিসেবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক করেছেন। সিগারেটের তুলনায় সোডা অবশ্যই স্বাস্থ্যকর পছন্দ হলেও এই প্রবণতা পুরোপুরি ক্ষতিহীন নয় বলে তিনি সতর্ক করেন।
তাঁর সতর্কবার্তা হলো, ডায়েট কোক যখন প্রতিদিনের আবেগগত অবলম্বনে পরিণত হয়, তখন তা নির্ভরশীলতার ধরনকে আরও শক্ত করতে পারে—বিশেষ করে উদ্বেগ সামলাতে, ক্ষুধা দমাতে বা অস্বস্তি এড়াতে এটি ব্যবহৃত হলে।
উইসকনসিনের প্রাকৃতিক চিকিৎসক ডেব্রা মুথ এর আগে কৃত্রিম মিষ্টির মস্তিষ্কের পুরস্কার ব্যবস্থার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেন, মস্তিষ্ক আসলে অ্যাসপার্টেম বা নিকোটিন চায় না, চায় ডোপামিন। সিগারেটের বদলে সোডা খাওয়াকে তিনি একটি খারাপ অভ্যাসের সঙ্গে আরেকটির বদলি হিসেবে বর্ণনা করেন এবং প্রাকৃতিকভাবে ডোপামিন তৈরিতে সহায়ক অ্যামিনো অ্যাসিড, রক্তে শর্করার ভারসাম্য ও প্রকৃত চাপ ব্যবস্থাপনার পরামর্শ দেন।
সব মিলিয়ে, বিক্রির হিসাবে ডায়েট কোকের ফিরতি গতি আর সামাজিক মাধ্যমের ভাইরাল ডাকনাম—দুই দিক থেকেই পণ্যটি আবার আলোচনায়। কোম্পানির সিইও সেই ডাকনামকে স্বাভাবিকভাবে নিলেও বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, প্রতিদিনের আবেগগত নির্ভরতা যেন অভ্যাসে পরিণত না হয়।


