৩৫ বছর পর শেষ হলো পশ্চিম সাহারায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশন, সংঘাত বাড়ার সতর্কবার্তা গুতেরেসের
বিতর্কিত পশ্চিম সাহারা অঞ্চলে ৩৫ বছর ধরে চলা শান্তিরক্ষা মিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর সেখানে সংঘাত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
রোববার এক বিবৃতিতে গুতেরেসের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক বলেন, মহাসচিব পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন রয়েছেন এবং সংঘাত আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
শুক্রবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ মিশনটির মেয়াদ নবায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ার পর রোববার গুতেরেস মিশনটির সমাপ্তি নিশ্চিত করেন।
তিনি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর এবং উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণ করতে পারে এমন পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
গুতেরেস বলেন, ১ নভেম্বর থেকে শান্তিরক্ষা মিশনটির ‘অবলুপ্তি পর্ব’ শুরু হয়েছে, যার আওতায় মিশনের সম্পদ সৈন্য সরবরাহকারী দেশগুলোতে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ এবং অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গণভোটের প্রস্তুতির জন্য জাতিসংঘ ১৯৯১ সালে পশ্চিম সাহারায় গণভোটের জন্য মিশন মিনুরসো প্রতিষ্ঠা করে।
১৯৭৫ সালে স্পেন উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার এই মরু অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার পর থেকে মরক্কো পশ্চিম সাহারাকে নিজের এলাকা হিসেবে মনে করে; আকারে প্রায় ব্রিটেনের সমান এই অঞ্চলটি। আদিবাসী সাহরাউই জনগণের পক্ষে আলজেরিয়ার সমর্থিত পোলিসারিও ফ্রন্ট সেখানে সাহরাউই প্রজাতন্ত্র নামে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়।
শুক্রবার নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র পশ্চিম সাহারায় আত্মনিয়ন্ত্রণের নীতিকে সমর্থন করে একটি প্রস্তাব তোলে। ওয়াশিংটনের খসড়ায় মিশনটির মেয়াদ এক বছর বাড়ানো, এর নাম থেকে ‘গণভোট’ শব্দটি বাদ দেওয়া এবং মরক্কোর স্বায়ত্তশাসন প্রস্তাবকেই পরবর্তী আলোচনার একমাত্র ভিত্তি করার কথা ছিল। ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যসহ ১৫ সদস্যের পরিষদের ১১ সদস্যের সমর্থন পেলেও রাশিয়া প্রস্তাবটিতে ভেটো দেয়। এরপর পরিষদ রাশিয়ার পাল্টা প্রস্তাবটিও হারিয়ে দেয়, ফলে নতুন মেয়াদ ছাড়াই মিশনটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
গুতেরেস রোববার বলেন, মিনুরসোর শান্তিরক্ষা কার্যক্রম শেষ হলেও সংলাপ এগিয়ে নেওয়া এবং এই সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রচেষ্টায় সমর্থন দিতে জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে।
মরক্কোর রাজপ্রাসাদ বলেছে, মিশনটির মেয়াদ নবায়ন না হওয়া পশ্চিম সাহারা ইস্যুটিকে নিরাপত্তা পরিষদের বিবেচনা থেকে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’।
অন্যদিকে শনিবার আলজেরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মেয়াদ নবায়ন না হওয়ায় ‘গভীর দুঃখ’ প্রকাশ করে, এর জন্য মরক্কোর অবস্থানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অতিরিক্ত পক্ষপাত’কে দায়ী করে। পোলিসারিও ফ্রন্ট এক বিবৃতিতে বলেছে, নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের অচলাবস্থা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
শুক্রবারের ভোটের পর যুক্তরাষ্ট্রের জাতিসংঘ রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, ২০২৬ সালে গণভোটের জন্য মিশনের নামে ‘আর’ অক্ষরটি টিকিয়ে রাখতে ভেটো ব্যবহার করা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক; ওয়াশিংটনের প্রস্তাব ৫০ বছরের এই সংঘাতকে এগিয়ে নিত এবং বর্তমান স্থিতাবস্থা অগ্রহণযোগ্য। একই বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্যাসিলি নেবেনজিয়া বলেন, খসড়াটি এক পক্ষের পক্ষে ঝুঁকেছে বলেই মস্কো এর বিরোধিতা করেছে; নিরাপত্তা পরিষদ সার্বভৌমত্ব-সংক্রান্ত বিষয় আগে থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করে দিতে পারে না বলেও তিনি জোর দেন।


