এনআইডি সংশোধনের আইনি জটিলতা কাটাতে কর্মশালা করবে নির্বাচন কমিশন, ঝুলে আছে ১ লাখ ২৮ হাজার আবেদন

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্য সংশোধনে আইনি জটিলতা নিরসন ও নাগরিকদের ভোগান্তি কমাতে কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সোমবার (২ নভেম্বর) ইসির এনআইডি অনুবিভাগ থেকে এ তথ্য জানা যায়।
এ লক্ষ্যে দেশের ১০টি প্রশাসনিক অঞ্চল থেকে ১০০টি করে মোট ১ হাজার সংশোধন আবেদন পর্যালোচনা করা হবে। আগামী ১৯ নভেম্বর এ কর্মশালা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসির জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের সূত্রে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে মানবিক বিবেচনায় এনআইডির তথ্য সংশোধন প্রয়োজন হলেও বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের কারণে তা অনুমোদন করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে প্রবাসীদের এনআইডি সংশোধনে এ ধরনের জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে।
বিদেশে যাওয়ার আগে এনআইডিতে নিজের বা বাবা-মায়ের নামের ভুল থাকলে পরবর্তী সময়ে পাসপোর্টসহ অন্যান্য নথির সঙ্গে তথ্যের অমিল তৈরি হচ্ছে। এতে অনেক প্রবাসী নতুন পাসপোর্ট তৈরি করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছেন।
বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়েছে। তবে প্রচলিত আইনে মানবিক বিবেচনায় এসব আবেদন অনুমোদনের সুযোগ নেই।
এ অবস্থায় জটিল আবেদনগুলো নিষ্পত্তির উপায় খুঁজতে শিক্ষক, সমাজকর্মী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের মতামত নেওয়া হবে।
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত এনআইডি সংশোধনের জন্য প্রায় ৬৫ লাখ ৭১ হাজার আবেদন জমা পড়েছে। এর মধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে প্রায় ৬৪ লাখ ৪৩ হাজার আবেদন। বর্তমানে ঝুলে আছে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার আবেদন।
এর মধ্যে প্রায় ৭০ হাজার আবেদন রয়েছে 'ঘ' ক্যাটাগরিতে। এসব আবেদন নিষ্পত্তি করেন এনআইডি অনুবিভাগের মহাপরিচালক। বাকি প্রায় ৫৮ হাজার আবেদন অন্য ছয়টি ক্যাটাগরিতে মাঠপর্যায়ে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে।
ইসির স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী, সংশোধনের আবেদনের জটিলতা বিবেচনায় ক, ক-১, খ, খ-১, গ ও ঘ—এই ছয় ক্যাটাগরিতে ভাগ করে আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়।




