মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিনে রাশিয়া বড় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, সতর্ক করলেন জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সোমবার সতর্ক করেছেন, রাশিয়া মঙ্গলবারের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউক্রেনে একটি ‘বড় হামলার’ প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার অভিযোগ, বিশ্বের নজর অন্যত্র থাকার সুযোগে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে মস্কো।
রাতের ভাষণে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে যে রাশিয়া আমাদের দেশের ওপর নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে — মূলত জ্বালানি ও সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে।’
তিনি বলেন, মস্কোর হিসাব হলো — আগামীকাল বিশ্ব আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে তাকিয়ে থাকবে, আর ইউক্রেনের পরিস্থিতি এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে তাদের সংকট সবার নজরের আড়ালে থেকে যাবে।
জেলেনস্কির এই সতর্কতা আসে এমন এক দিনে, যেদিন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাবে তা নির্ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই ফল রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের প্রায় পাঁচ বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের প্রতি ওয়াশিংটনের ভবিষ্যৎ অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে।
সতর্কতার কয়েক ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝিয়া অঞ্চলের কোমিশুভাখা এলাকায় মানবিক সহায়তা বিতরণে ব্যবহৃত একটি বিদ্যালয়ে রুশ বাহিনী হামলা চালায়। ইউক্রেনের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এতে পুলিশ সদস্য ও উদ্ধারকর্মীসহ অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন, পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন।
এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া পোস্টে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানান, পুতিনকে যেন এমন সংকেত দেওয়া হয় যে হামলা অব্যাহত থাকলে রাশিয়াকে গুরুতর অর্থনৈতিক পরিণতি ভোগ করতে হবে।
তিনি লেখেন, ‘বিশ্ব থেকে রাশিয়ার কাছে এমন সংকেত পৌঁছাতে হবে, যাতে তারা বোঝে — সন্ত্রাসে কোনো লাভ নেই, তাতে কোনো অর্জন আসবে না। আর যতদিন এই যুদ্ধ চলবে, তাদের তেল জ্বলবে এবং তারা বিশ্বের সঙ্গে ব্যবসা করে অর্থ উপার্জন করতে পারবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘রাশিয়ার তেল বা গ্যাসের রাজস্ব নিয়ে আমাদের খেলা করা উচিত নয়। রাশিয়ার ওপর এমনভাবে চাপ দিতে হবে, যাতে যুদ্ধ শেষ করা ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প না থাকে। আমেরিকা এটা করতে পারে।’
এদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সহায়তায় মস্কোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন; দুজনই মস্কোর সঙ্গে কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় যুক্ত রয়েছেন।
রোববার এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, ওয়াশিংটন একই সময়ের জন্য প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধব্যবস্থা সরবরাহ করলে ইউক্রেন এক মাসের জন্য রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোতে হামলা স্থগিত রাখবে — যা কূটনৈতিক অগ্রগতির পথ খুলে দিতে পারে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইউক্রেনের কাছে আনুমানিক ২১০ কোটি ডলার মূল্যের ৫০০টি প্যাট্রিয়ট প্যাক-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের সম্ভাব্য বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। বিক্রিটি চূড়ান্ত হলে তা ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষাকে বড় শক্তি জোগাতে পারে, যদিও সরবরাহের সময়সূচি অনিশ্চিত।
সোমবারই ইউক্রেন অভিযোগ করেছে, দক্ষিণ খারসন অঞ্চলের ওলেশকিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে হওয়া মানবিক যুদ্ধবিরতির সুযোগ নিয়ে রাশিয়া নিজেদের সামরিক অবস্থান শক্তিশালী করেছে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় হওয়া ছয় দিনের এই মানবিক বিরতিতে প্রায় ৮০০ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়। ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলেছে, তাদের বাহিনী যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও শত্রুপক্ষ এই বিরতিকে কাজে লাগিয়েছে সৈন্য বদলি, প্রতিরক্ষা জোরদার এবং যুদ্ধক্ষেত্রের সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করতে।




