আদালতের আদেশে মুক্ত হন্ডুরাসের নাগরিকের বিরুদ্ধে মিনেসোটায় নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ, আইসিইর দাবি

যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একজন ফেডারেল বিচারকের আদেশে অভিবাসন হেফাজত থেকে মুক্তি পাওয়া হন্ডুরাসের এক নাগরিকের বিরুদ্ধে দুই মাস পর মিনেসোটায় নিজ বাড়িতে এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্তের নাম মার্কোতুলিও মেলেন্দেজ দিয়াজ (৪২)।
ফেডারেল কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর মেলেন্দেজ দিয়াজ ওই নারীর বাড়িতে ঠিকাদারি (হ্যান্ডিম্যান) কাজে গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি জোরপূর্বক ওই বাসিন্দাকে বারবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাউন্ডস ভিউয়ের ওই বাড়ির ভেতরের নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে ঘটনাটি ধরা পড়েছে।
মেলেন্দেজ দিয়াজের বিরুদ্ধে জবরদস্তিমূলক প্রথম-মাত্রার অপরাধমূলক যৌন অনুপ্রবেশের (ফেলনি) অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি বর্তমানে হেফাজতে রয়েছেন এবং দোষী সাব্যস্ত হলে সর্বোচ্চ ৩০ বছর কারাদণ্ড হতে পারে।
মার্কিন অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থা (আইসিই) আগস্টে তাকে মুক্তির আদেশ দেওয়ার জন্য মার্কিন জেলা বিচারক অরল্যান্ডো এল. গার্সিয়ার সমালোচনা করেছে। সংস্থাটির দাবি, মেলেন্দেজ দিয়াজ হেফাজতে থাকলে এই ঘটনা প্রতিরোধ করা যেত।
আইসিই এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আইসিই তাকে গ্রেপ্তার করেছিল, আর একজন অভিবাসন বিচারক তার বহিষ্কারের আদেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু ক্লিনটন-নিযুক্ত একজন ফেডারেল বিচারক তাকে মুক্তির আদেশ দেন। আর এখন একজন আমেরিকান নারীকে ভয়াবহ এক অপরাধের শিকার হতে হলো, যা প্রতিরোধ করা যেত।’
আইসিইর সূত্রগুলো জানিয়েছে, মেলেন্দেজ দিয়াজকে প্রথমে ২০২৪ সালের এপ্রিলে দক্ষিণ সীমান্তে আটক করা হয় এবং তখনকার বাইডেন প্রশাসন তাকে ছেড়ে দেয়। চলতি বছরের (২০২৬) জানুয়ারিতে ‘অপারেশন মেট্রো সার্জ’ চলাকালে তাকে মিনেসোটায় আবার গ্রেপ্তার করা হয় এবং টেক্সাসে আইসিইর হেফাজতে স্থানান্তর করা হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত ৩০ মার্চ একজন অভিবাসন বিচারক তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ দেন, যার বিরুদ্ধে মেলেন্দেজ দিয়াজ আপিল করেন। আপিল পর্যালোচনাধীন থাকা অবস্থায় টেক্সাসের পশ্চিম জেলার ফেডারেল বিচারক গার্সিয়া তার হেবিয়াস আবেদন মঞ্জুর করে মুক্তির আদেশ দেন; রায়ে বলা হয়, তার আটক বেআইনি বা অযৌক্তিকভাবে দীর্ঘায়িত হয়েছিল। এই রায়ের ফলে তিনি মিনেসোটায় ফিরে আসতে পারেন।
গত ৯ অক্টোবর তার আপিল খারিজ হয় এবং অভিবাসন আপিল বোর্ড তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারের আদেশ জারি করে। কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বহিষ্কারের আদেশ চূড়ান্ত হওয়ার মাত্র দুই দিন পরই তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়।




