যুদ্ধ বন্ধে তেহরান-ওয়াশিংটন সমঝোতা এখনো অনেক দূরে: কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে, খসড়া চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে
যুদ্ধ বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখনো অনেক দূরে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি একথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর দুই দেশের মধ্যে আবার বড় ধরনের সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা এড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার হলেও সমঝোতার সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত।
এদিকে সোমবার রাতভর ইরানের কেশম দ্বীপে ‘প্রতিরক্ষামূলক’ হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা ও সম্পদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে এসব হামলা চালানো হয়েছে।
আরেক মার্কিন কর্মকর্তা বলেছেন, হামলাগুলো সীমিত পরিসরে চালানো হয়েছে এবং এগুলো বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত দেয় না।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধ আবার ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে কাতার। বিশেষ করে মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সংঘাত নতুন করে শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, ‘তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে মধ্যস্থতাকারীরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন।’ গত আট দিন ধরে আলোচনাধীন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান খসড়া চুক্তির একটি সংস্করণ নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার রাতে কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা তেহরানে যান।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কাতার জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশই মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া প্রস্তাবগুলোও পর্যালোচনা করছে তারা। তেহরান সফর করা কাতারের প্রতিনিধিদল দোহায় ফিরে গেলেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি।
এক সংবাদ সম্মেলনে আনসারি বলেন, ‘উত্তেজনা বৃদ্ধি এড়াতে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে নিবিড় যৌথ প্রচেষ্টা চলছে।’ ভবিষ্যতে আলোচনার পথ তৈরি করতে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, তেহরানের শর্ত পূরণ হওয়ার পরই কেবল পারমাণবিক আলোচনা শুরু হতে পারে। ওয়াশিংটনের ‘অতিরিক্ত দাবি’ মেনে নেবে না ইরান। যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে মধ্যপ্রাচ্যসহ এর বাইরেও শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, এখন বল যুক্তরাষ্ট্রের কোর্টে। তেহরান ইতিমধ্যে নিজেদের ‘শক্তিশালী ও যৌক্তিক জবাব’ দিয়েছে। গালিবাফ বলেন, ‘হুমকি ও সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে ইরানি জাতিকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে চায় শত্রুপক্ষ। কিন্তু তারা মারাত্মক ভুল করছে। ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না।’
যুক্তরাষ্ট্র কোনো ভুল হিসাব করলে তার জবাব হবে অননুমেয় এবং তা কোনো ভৌগোলিক সীমারেখা মেনে চলবে না বলেও সতর্ক করেন গালিবাফ। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ইরানে হামলা শুরু করতে পারেন—এমন আশঙ্কায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


