স্পেনে উচ্চগতির ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ৬৯ জনের মধ্যে দুই অস্ট্রেলীয়ের পরিচয় নিশ্চিত

স্পেনে গত সপ্তাহের উচ্চগতির ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ৬৯ জনের মধ্যে দুজন অস্ট্রেলীয় নাগরিক রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ। পরিচয় শনাক্তকরণের কাজে নিয়োজিত আইনি সংস্থাটি সোমবার গভীর রাতে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সর্বশেষ শনাক্ত হওয়া তিনজনের মধ্যে দুজন অস্ট্রেলীয় এবং একজন জাপানি নাগরিক। তাদের নাম প্রকাশ করা হয়নি।
শনাক্তকরণের এই সংস্থাটি পুলিশ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত। দুর্ঘটনার পর থেকে ফরেনসিক দলগুলো মৃতদেহ শনাক্তে কাজ করে যাচ্ছে, কখনো কখনো দেহের আলাদা অংশ থেকেও পরিচয় নির্ধারণ করতে হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে স্বজনদের দীর্ঘ ও যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য দপ্তর বুধবার সকালে এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে, নিহত দুই অস্ট্রেলীয়ের পরিবারকে তারা কনস্যুলার সহায়তা দিচ্ছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এই কঠিন সময়ে পরিবারগুলোর প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং তাঁর স্প্যানিশ সমকক্ষ হোসে ম্যানুয়েল আলবারেসের কাছে এবং স্পেনের জনগণের প্রতি ‘অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা’ পাঠিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যাঁরা প্রিয়জন হারিয়েছেন, যাঁরা আহত হয়েছেন এবং এই মর্মান্তিক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি আমাদের সমবেদনা রইল।’
নিহত ৬৯ জনের মধ্যে ৫৪ জন স্প্যানিশ নাগরিক এবং ১৫ জন বিদেশি। বিদেশিদের মধ্যে রয়েছেন চারজন মার্কিন, দুজন অস্ট্রেলীয়, দুজন জাপানি এবং আর্জেন্টিনা, কানাডা, ফ্রান্স, মেক্সিকো, পর্তুগাল, তিউনিসিয়া ও চেক প্রজাতন্ত্রের একজন করে নাগরিক।
দুর্ঘটনাটি ঘটে মধ্যাঞ্চলের উর্দা গ্রামের বাইরে, মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দক্ষিণে। রাষ্ট্রীয় পরিচালক রেনফের একটি ট্রেন সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা স্প্যানিশ কোম্পানি ইরিওর একটি ট্রেনের পেছনে ধাক্কা দেয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ায় ৬৩ কিলোমিটার দীর্ঘ রেলপথের সব ট্রেন থেমে গিয়েছিল। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র অন্য ট্রেনটি তখনো লাইনে থাকা অবস্থাতেই রেনফের ট্রেনটিকে যাত্রা শুরুর অনুমতি দেয়।
এটি এ বছর স্পেনে দ্বিতীয় উচ্চগতির ট্রেন সংঘর্ষ। জানুয়ারিতে দক্ষিণাঞ্চল আন্দালুসিয়ায় এক সংঘর্ষে ৪৬ জন নিহত হয়েছিলেন। ফলে দেশটির রেল নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়ার লেবার দলের সংসদ সদস্য জেসন ক্লেয়ার বৃহস্পতিবার এবিসি টিভিকে বলেছেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা থেকে মানুষ ‘কখনোই পুরোপুরি সেরে উঠতে পারে না’। তিনি বলেন, ‘পুরো দেশ এই মুহূর্তে ধাক্কায় আছে, পর্দায় এসব ছবি দেখে। এটা সত্যিই ভয়াবহ।’




