ফ্লোরিডার পাম বেতে ভয়াবহ বন্যায় দুজন নিহত, শত শত মানুষ উদ্ধার

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের পাম বে শহরে ভয়াবহ বন্যায় দুজন নিহত হয়েছেন এবং শত শত মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাম বের মেয়র রব মেদিনা মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে শহরের এই ধ্বংসযজ্ঞের কথা জানান।
ফ্লোরিডার কর্মকর্তারা নিহত দুজনকে শনাক্ত করেছেন। তাঁরা হলেন ৩৪ বছর বয়সী জশুয়া বেনেট এবং ৭৮ বছর বয়সী আর্চি রিচার্ডস। নিহতদের একজনের মৃত্যু হয়েছে একটি গাড়ির ভেতরে। রোববার থেকে শুরু হওয়া ঝড়ের কারণে সৃষ্ট বন্যায় এই প্রাণহানি ঘটে।
মেদিনা জানান, জরুরি উদ্ধারকর্মীরা নৌকা এবং বিশেষ উঁচু পানির যান ব্যবহার করে প্লাবিত এলাকা থেকে শত শত মানুষকে উদ্ধার করেছেন।
বন্যায় কিছু বাড়িঘর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মেয়র সাংবাদিকদের জানান, একটি পরিবার জানিয়েছে তাদের বসার ঘরে ৩৮ ইঞ্চি পানি ঢুকে গেছে। মেদিনা বলেন, ‘এটা আমাদের শহরের ভেতরে ধ্বংসযজ্ঞ।’
কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন, বৃষ্টি থেমে গেলেও বন্যা অব্যাহত থাকতে পারে, কারণ পানি নেমে যেতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। তাঁরা বাসিন্দাদের প্লাবিত সড়ক, দ্রুতগতির পানি এবং ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুৎ লাইন থেকে দূরে থাকতে অনুরোধ করেছেন।
বন্যা ফ্লোরিডার অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সেন্ট লুসি, মার্টিন এবং পাম বিচ কাউন্টি। অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঝড়ে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নির্ধারণে তাঁরা স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কাজ করছেন।
উপসাগরের ওপর তৈরি হওয়া একটি নিম্নচাপের কারণে রোববার ও সোমবার ফ্লোরিডা উপদ্বীপে অব্যাহত উপকূলীয় বাতাস বয়ে যায়। দক্ষিণ ব্রেভার্ড কাউন্টিতে রোববার ও সোমবার দুই ফুট পর্যন্ত বৃষ্টি হয়, যার ফলে সড়ক, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়।
ফ্লোরিডা ফিশ অ্যান্ড ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন কমিশন জানিয়েছে, সোমবার তারা ব্রেভার্ড কাউন্টিতে ৬০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলাকার স্কুলগুলো বন্ধ রাখা হয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার ফ্লোরিডার পূর্ব উপকূলে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। এদিন আরও ১ থেকে ২ ইঞ্চি বৃষ্টি হতে পারে, স্থানীয়ভাবে ৩ থেকে ৫ ইঞ্চি বা তারও বেশি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়ার তথ্যে জানানো হয়েছে।
ফ্লোরিডার লেফটেন্যান্ট গভর্নর জে কলিন্স পাম বে পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতি দেখেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা করেন। তিনি জরুরি সেবাকর্মী এবং প্রতিবেশীদের সাহায্যে এগিয়ে আসা বাসিন্দাদের ধন্যবাদ জানান। কলিন্স বলেন, ‘এটা হৃদয়বিদারক। যেসব নাগরিক সদ্য লুইজিয়ানা থেকে এখানে এসে সব গুছিয়ে নিয়েছিলেন, তাঁদের সবকিছু ধ্বংস হয়ে গেছে। এটা বিশাল ক্ষতি।’




