ফ্লোরিডায় বিধ্বস্ত লিয়ারজেটের বাম এলিভেটর মিলল মাইল দূরে, মার-এ-লাগো যোগের ‘কোনো প্রমাণ নেই’: এনটিএসবি

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নয়জন নিহতের লিয়ারজেট দুর্ঘটনা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার-এ-লাগো বাসভবনের ১০ মাইলেরও কম দূরত্বে ঘটলেও এর সঙ্গে সিক্রেট সার্ভিসের কার্যক্রমের কোনো যোগের প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন ফেডারেল তদন্তকারীরা। জাতীয় পরিবহন নিরাপত্তা বোর্ডের (এনটিএসবি) সদস্য টম চ্যাপম্যান মঙ্গলবার বলেন, ‘যোগের কোনো প্রমাণ নেই। এটি সম্পূর্ণ কাকতালীয়।’
মঙ্গলবার ঘটনাস্থলে এনটিএসবির শেষ ব্রিফিংয়ে চ্যাপম্যান জানান, বিধ্বস্ত লিয়ারজেট ৬০ বিমানটির বাম এলিভেটরের বেশিরভাগ অংশ পাম বিচ কাউন্টির দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১ দশমিক ৩ থেকে ৩ দশমিক ৮ মাইল দূরে উদ্ধার করা হয়েছে।
এই আবিষ্কার সেই প্রমাণকে আরও জোরালো করছে যে বিমানটি মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই ভাঙতে শুরু করেছিল। এলিভেটর হলো বিমানের লেজের একটি সচল পৃষ্ঠ, যা বিমানের নাক ওপরে বা নিচে যাওয়া নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
তবে চ্যাপম্যান বলেন, জেটটি যে গতিতে নিচে নামছিল, তা বিবেচনায় এই অংশটি লাগানো থাকলেও বিমানটি সামলে ওঠা সম্ভব হতো বলে তিনি মনে করেন না।
লিয়ারজেটটি সাতজন যাত্রী ও দুজন ক্রু সদস্যকে নিয়ে টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামার নর্থ এলিউথেরা যাচ্ছিল। রোববার বিমানটি বিধ্বস্ত হলে আরোহী নয়জনের সবাই নিহত হন।
তদন্তকারীরা এখন দুর্ঘটনার গর্ত (ক্রেটার) থেকে পানি সেচে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে আরও বিমানাংশ মিলবে বলে তাঁরা আশা করছেন। চ্যাপম্যান বলেন, দুর্ঘটনার শক্তি বিবেচনায় সেখানে পুঁতে থাকা অংশগুলো সম্ভবত ছোট ছোট হবে।
প্রচণ্ড আবহাওয়া উদ্ধারকাজের কিছু অংশ ব্যাহত করেছে, এবং আবহাওয়া তদন্তের একটি প্রধান কেন্দ্র হয়েই আছে। দুর্ঘটনার কারণ এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।
বিমানটির শেষ মুহূর্তগুলো পুনর্গঠনে সাহায্য করতে তদন্তকারীরা ড্যাশক্যাম ফুটেজও সংগ্রহ করেছেন। উদ্ধার করা ধ্বংসাবশেষ বিশ্লেষণের জন্য রাখা হচ্ছে, এবং কর্মকর্তারা কেউ ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেলে তা না ছুঁয়ে কর্তৃপক্ষকে জানাতে অনুরোধ করেছেন।
বিমানের ক্রুরা প্রায় ৩৫ হাজার ফুট উচ্চতায় হালকা স্বচ্ছ বরফ ও মাঝারি মাত্রার অস্থিরতার কথা জানিয়েছিলেন এবং ৩৭ হাজার ফুটে ওঠার অনুমতি চেয়েছিলেন। নিয়ন্ত্রকরা সেই অনুরোধ অনুমোদনের ৩০ সেকেন্ডেরও কম সময়ের মধ্যে ক্রুরা নিচে নামার কথা জানান এবং জরুরি (মেডে) ডাক দেন।
দুর্ঘটনার পর মিলিটারি ট্রেইল ও ক্রেস্টহেভেন বুলেভার্ডের কাছাকাছি এলাকার প্রায় ৬০০ বাসিন্দাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাম বিচ কাউন্টির মুখপাত্র জন জামাসন দ্য পাম বিচ পোস্টকে জানান, ৪০ থেকে ৫০ জন গ্রিনএকারস কমিউনিটি সেন্টারে অবস্থান করছেন। বাস্তুচ্যুত বাসিন্দাদের আবাসন ও পরিবহনে সাহায্যের জন্য কাউন্টি কর্মকর্তারা রাজ্যের তহবিল চাইছেন।
কর্মকর্তারা মঙ্গলবারের ব্রিফিংয়ে বলেন, মিলিটারি ট্রেইল ১০তম অ্যাভিনিউ নর্থ ও পার্ডি লেনের মধ্যে দুই দিকেই বন্ধ রয়েছে। সড়কটি কবে আবার খুলবে কিংবা বাস্তুচ্যুত বাসিন্দারা কবে বাড়ি ফিরতে পারবেন, সে বিষয়ে কোনো সময়সূচি দেওয়া হয়নি।




