বড় পুনর্গঠনে ক্যানভা: ছাঁটাই ও স্থানান্তরের মুখে বৈশ্বিক কর্মীর ২২ শতাংশ

অস্ট্রেলীয় প্রতিষ্ঠান ক্যানভা বড় ধরনের পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ১ হাজার ২০০ জনের বেশি কর্মীর চাকরি ছাঁটাই করছে বা তাঁদের স্থানান্তর করছে, যা প্রতিষ্ঠানটির বৈশ্বিক কর্মীসংখ্যার ২২ শতাংশ। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী এই পুনর্গঠনে মোট ১ হাজার ২৭১ জন কর্মী প্রভাবিত হবেন।
ক্যানভার প্রধান নির্বাহী মেলানি পারকিনস বুধবার কর্মীদের পাঠানো এক ইমেইলে এই পুনর্গঠনকে ‘আমাদের তেরো বছরের ইতিহাসে নিঃসন্দেহে সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন।
পারকিনস লিখেছেন, ‘কারো কারো ক্ষেত্রে এর অর্থ হবে ভূমিকায় পরিবর্তন কিংবা কেন্দ্রীভূত হাবে স্থানান্তরের অনুরোধ। দুঃখজনকভাবে, এর অর্থ হবে এমন সতীর্থ ও বন্ধুদের বিদায় জানানো, যাঁরা ক্যানভাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিতে সাহায্য করেছেন।’
কোম্পানিটি জানিয়েছে, পুনর্গঠনের লক্ষ্য ‘স্তরগুলো কমিয়ে আনা’ এবং ‘আরও বেশি দলকে একসঙ্গে সামনাসামনি কাজে আনা’।
পারকিনস বলেন, স্থানান্তরের অনুরোধ পাওয়া কর্মীদের জন্য এটি বড় সিদ্ধান্ত, এবং প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক সহায়তার মাধ্যমে প্রক্রিয়াটি যতটা সম্ভব মসৃণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে ছাঁটাইয়ের সঠিক সংখ্যা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি।
ক্যানভা ছেড়ে যাওয়া কর্মীরা অন্তত ছয় মাসের বেতন পাবেন। যেসব দেশে এই সুবিধা প্রযোজ্য, সেখানে তাঁরা আরও ১২ মাস স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা পাবেন এবং নিজেদের ল্যাপটপও রাখতে পারবেন।
এ ছাড়া চাকরি ছেড়ে যাওয়া কর্মীরা নিজেদের উদ্যোগ শুরু করতে ১০ হাজার মার্কিন ডলার (১৪ হাজার অস্ট্রেলীয় ডলার) অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
গ্রাফিক ডিজাইন প্রতিষ্ঠান ক্যানভা অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সফল স্টার্টআপ এবং দীর্ঘদিন ধরে ন্যাসডাকে বড় আকারের তালিকাভুক্তির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচিত।
প্রযুক্তি খাতে পুনর্গঠনের চলমান ঢেউয়ের সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত যুক্ত হয়েছে। সফটওয়্যার কোম্পানি অ্যাটলাসিয়ানে ১ হাজার ৬০০ কর্মী ছাঁটাই হয়েছে, আর আফটারপের মালিক ব্লক এবং আরেক সফটওয়্যার কোম্পানি ওয়াইজটেক গ্লোবালেও চাকরি হারিয়েছেন কর্মীরা।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো একদিকে সস্তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে লড়ছে, অন্যদিকে নিজেরাই আক্রমণাত্মকভাবে এআই টুল যুক্ত করছে।
তবে অ্যাটলাসিয়ান, ব্লক ও ওয়াইজটেকের সঙ্গে পার্থক্য হলো, ক্যানভা তার পুনর্গঠনের ঘোষণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কথা উল্লেখ করেনি।



