আইওয়ার সিনেট আসন ছিনিয়ে নিলেন ডেমোক্র্যাট জশ তুরেক, হারলেন ট্রাম্প-সমর্থিত হিনসন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিনেট আসনে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জশ তুরেক। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ফল ঘোষণা অনুযায়ী তিনি রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান অ্যাশলি হিনসনকে পরাজিত করেছেন। এই জয়ের মধ্য দিয়ে এক দশকের বেশি সময় ধরে আইওয়ার দুটি সিনেট আসনেই রিপাবলিকানদের যে দখল ছিল, তা ভেঙে গেল।
আসনটি শূন্য হচ্ছে অবসরে যাওয়া রিপাবলিকান সিনেটর জোনি আর্নস্টের কারণে। গত শরতে আর্নস্ট জানিয়েছিলেন, তিনি তৃতীয় মেয়াদে আর প্রার্থী হবেন না। ফলে দেশের সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ সিনেট আসনগুলোর একটি হিসেবে আইওয়ার এই লড়াইয়ের দিকে সবার নজর ছিল, আর শেষ পর্যন্ত আসনটি দল বদল করেছে।
তুরেক কাউন্সিল ব্লাফস থেকে নির্বাচিত একজন রাজ্য প্রতিনিধি। তিনি প্যারালিম্পিক বাস্কেটবলে দুবারের স্বর্ণপদকজয়ী। স্পাইনা বাইফিডা নামের শারীরিক অবস্থার কারণে তিনি হুইলচেয়ার ব্যবহার করেন; তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর এই অবস্থার পেছনে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় তাঁর বাবার এজেন্ট অরেঞ্জের সংস্পর্শে আসার যোগ রয়েছে।
রাজ্য পর্যায়ে তুলনামূলকভাবে কম পরিচিত একজন আইনপ্রণেতা হিসেবেই তাঁর উত্থান। গত জুনে তিনি রাজ্য সিনেটের সাবেক সংখ্যালঘু নেতা জ্যাক ওয়ালসকে হারিয়ে ডেমোক্র্যাট দলের মনোনয়ন নিশ্চিত করেন।
নিজেকে ‘প্রেইরি পপুলিস্ট’ বলে পরিচয় দেওয়া তুরেক প্রচারে সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা সংস্কারের ওপর। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল’ আইনকে সমর্থন করার জন্য তিনি হিনসনের সমালোচনা করেছেন; ওই আইনে দেশজুড়ে মেডিকেইড ব্যয় প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলার কমানো হয়েছে। ওয়াশিংটনে থাকার সময় হিনসনের ব্যক্তিগত সম্পদ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।
দুই প্রার্থীই নিজেদের দ্বিদলীয় মানসিকতার আইনপ্রণেতা হিসেবে তুলে ধরে রাজ্যের বিপুলসংখ্যক অনিশ্চিত ভোটারকে টানার চেষ্টা করেছেন। তবে জরিপের তথ্যে লড়াই ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠার ইঙ্গিত মিলতে থাকায় শেষ দিকে পরস্পরের বিরুদ্ধে আক্রমণও বেড়ে যায়।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমতে থাকায় আইওয়ার আসনটি ক্রমে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে ওঠে। কৃষিপ্রধান এই রাজ্যের বড় শিল্পখাত শুল্কের চাপে পড়েছে, আর ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের কারণে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়াও সেখানে প্রভাব ফেলেছে। ভোটারদের সামনে হিনসনকে অনেক সময় সতর্ক অবস্থান নিতে দেখা গেছে, আর গ্রীষ্ম নাগাদ আসনটিকে ‘টস-আপ’ বা যেকোনো দিকে যেতে পারে এমন আসন হিসেবে ধরা হচ্ছিল।
এই লড়াই দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচনগুলোর একটি। কেন্দ্রীয় ব্যয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুই প্রার্থী মিলে তিন কোটি ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। ওপেন সিক্রেটসের হিসাব অনুযায়ী, বাইরের বিভিন্ন গোষ্ঠী এই আসনের নির্বাচনে ১০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ দিয়েছে।
নির্বাচনের শেষ প্রান্তিকে তুরেক তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী হিনসনের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি অর্থ সংগ্রহ করেন। সাবেক টেলিভিশন সাংবাদিক হিনসনকে আইওয়ার রাজনীতিতে উদীয়মান তারকা হিসেবে দেখা হতো। আর্নস্টের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে শুরুতে তাঁকেই এগিয়ে রাখা হয়েছিল এবং প্রার্থিতা ঘোষণার অল্প পরেই তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সমর্থন পেয়েছিলেন।
আইওয়া পরপর তিনবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছে; ২০২৪ সালে তিনি রাজ্যটিতে ১৩ পয়েন্টের ব্যবধানে জিতেছিলেন। সেই রাজ্যেই এবার একটি সিনেট আসন রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হলো।




