সাড়ে ৩৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ: মতিঝিলের ব্যবসায়ী সালাহউদ্দিন রিপনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার অনুমোদন

ব্যবসায়ী মো. সালাহউদ্দিন রিপনের বিরুদ্ধে ৩৫ কোটি ৫৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৬ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং এসব সম্পদ ব্যবসায় অর্জন করেছেন বলে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রাজধানীর মতিঝিলের মেসার্স এল আর ট্রেডিংয়ের মালিক তিনি। কমিশন তার বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দিয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুদকের উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দুদক বলেছে, জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ গণ্য করে কমিশন মামলার অনুমোদন দিয়েছে।
দুদক জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর ই/আর নম্বর-৬৫/২০১৭-এর প্রাথমিক অনুসন্ধানকালে সালাহউদ্দিন রিপনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্যের প্রমাণ পাওয়া যায়। তার প্রতিষ্ঠান মেসার্স এল আর ট্রেডিংয়ের ঠিকানা ৭৮ মতিঝিল বা/এ (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১০০০।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের পর দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারার ক্ষমতাবলে তার নিজের ও নিজের ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নিজ নামে বা বেনামে অর্জিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদসহ দায়-দেনার বিবরণী দাখিল করার জন্য দুদক জেলা কার্যালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি তার নিজ নামে অর্জিত যাবতীয় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস ও সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত তথ্য ২০২০ সালের ২৩ জুন উপপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১ বরাবর দাখিল করেন।
দুদক জানায়, দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তিনি নিজ নামে ৪২ কোটি ১২ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৫ টাকার স্থাবর ও ৪ কোটি ২৮ লাখ ৭২ হাজার ২০৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ অর্জন এবং ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭৪৯ টাকার দায়-দেনা থাকার ঘোষণা দেন। দায়-দেনা বাদে তার ঘোষণা করা মোট সম্পদের পরিমাণ ৩৯ কোটি ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৩৩৫ টাকা।
সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে দায়-দেনা বাদে তার মোট ৩৯ কোটি ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৩৩৫ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে বলে দুদক জানায়।
রেকর্ডপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০০৭-২০০৮ থেকে ২০২০-২০২১ করবর্ষ পর্যন্ত সালাহউদ্দিন রিপনের মোট গ্রহণযোগ্য বৈধ আয়ের পরিমাণ ৮ কোটি ৫৪ লাখ ৬৪ হাজার ১৩৫ টাকা। ওই সময়ে তিনি ব্যয় করেছেন ৪ কোটি ২৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫৯৬ টাকা।
তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস থেকে ব্যয় বাদ দিলে সঞ্চয় পাওয়া যায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৯ টাকা। ওই সঞ্চয় ছাড়া তার অন্য কোনো বৈধ উৎস না থাকায় সম্পদ অর্জনের মোট বৈধ উৎসের পরিমাণ দাঁড়ায় ৪ কোটি ৩০ লাখ ৮৯ হাজার ৫৩৯ টাকা।
অন্যদিকে যাচাইকালে দায়-দেনা বাদে তার নামে প্রাপ্ত নিট সম্পদের পরিমাণ ৩৯ কোটি ৮৩ লাখ ৯৮ হাজার ৩৩৫ টাকা। দুদকের হিসাব অনুযায়ী, এতে সালাহউদ্দিন রিপন ৩৫ কোটি ৫৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৬ টাকার সম্পদ তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণভাবে অর্জন করে ভোগদখলে রেখেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ ছাড়া সালাহউদ্দিন রিপন তার দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে স্থাবর সম্পদ অর্জনের জন্য ব্যবহৃত উৎস হিসেবে ব্যবসার আয় প্রদর্শন করেছেন, যা সত্য নয় বলে দুদক জানিয়েছে।



