মাগুরায় স্বর্ণের ভাগ নিয়ে বিরোধে ভাড়াটে খুনি দিয়ে যুবদল নেতাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ১১

মাগুরায় স্বর্ণ ডাকাতির লুটের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের জেরে পৌর যুবদল নেতা শাকের হোসেনকে ভাড়াটে খুনি দিয়ে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ড ও স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনায় পৃথক দুটি মামলায় এখন পর্যন্ত ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে মাগুরা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৬১ ভরি ৬ আনা স্বর্ণ উদ্ধার এবং ডাকাতিতে ব্যবহৃত একটি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ অক্টোবর ভোরে মাগুরা পৌরসভার কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল পরিবহনের কাউন্টারে গুলিবিদ্ধ হন পৌর যুবদলের নেতা শাকের হোসেন। পরে তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রথম দিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা থাকলেও তদন্তে বেরিয়ে আসে স্বর্ণ ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য। পুলিশ জানায়, গত ৬ অক্টোবর মাগুরা সদরের রামনগর বাজার এলাকায় সংঘটিত স্বর্ণ ডাকাতির নেতৃত্বে ছিলেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মারুফ হোসেন ও যুবদল নেতা শাকের হোসেন।
ওই ডাকাতিতে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল যুক্ত ছিল এবং প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণ লুট করা হয়। পরে লুটের স্বর্ণের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে মারুফ ও শাকেরের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে ভাড়াটে খুনি দিয়ে শাকেরকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন বলেন, হত্যাকাণ্ড ও স্বর্ণ ডাকাতির ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। তদন্তে ডাকাতির স্বর্ণের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে।
তবে ভুক্তভোগী স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. মজিবর রহমান অভিযোগ করেন, গত ১৫ অক্টোবর লিখিত অভিযোগ দিলেও শুরুতে পুলিশ বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। পরে উপায়ন্তর না পেয়ে তিনি খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কাছে অভিযোগ করেন।
অন্যদিকে নিহত শাকের হোসেনের স্ত্রী শারমিন নাহার রুমা তাঁর স্বামীর হত্যাকাণ্ডে জড়িত সবার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জনের মধ্যে রয়েছেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের বহিষ্কৃত সাবেক সভাপতি গোলাম জাহিদ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক মারুফ হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি শিকদার, শামীমা তাবাসসুম লুবনা, ঝিনাইদহের স্বর্ণ ব্যবসায়ী অনিমেষ মজুমদার ও বশির আলী।
পুলিশ জানিয়েছে, ডাকাতি হওয়া প্রায় ১৫০ ভরি স্বর্ণের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬১ ভরি ৬ আনা উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে; বাকি স্বর্ণের একটি বড় অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ভাড়াটে খুনিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের দাবি, অবশিষ্ট স্বর্ণ উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।




