কংগ্রেস হারিয়ে চাপে ট্রাম্প, সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নেই ঘনিষ্ঠ মিত্র নেতানিয়াহুরও
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টি, যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একচ্ছত্র ক্ষমতার জন্য বড় ধাক্কা। একই রকম ধাক্কা খেয়েছেন তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও—বুধবার (৪ নভেম্বর) তার রাজনৈতিক ভাগ্য নিয়ে প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর আলোচনা শুরু হচ্ছে, যার সিদ্ধান্ত আগামী শুক্রবারের মধ্যে আসতে পারে।
প্রাথমিক ফল অনুযায়ী, প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজনীয় ৫১ আসন পেরিয়ে তারা জিতেছে ৫৪টি আসনে। এই ফলকে ট্রাম্পের নীতির বিরুদ্ধে জনমতের স্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভোটারদের ক্ষোভের কেন্দ্রে ছিল জীবনযাত্রার ব্যয়, জ্বালানির দাম, মূল্যস্ফীতি ও ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ। দ্বিতীয় মেয়াদের শপথ অনুষ্ঠানে নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরলেও যুদ্ধ, জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তা ও শুল্কের প্রভাব সেই প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে; ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনেকটাই ট্রাম্পের নেতৃত্বের ওপর গণভোটে পরিণত হয়।
ইসরায়েলে নেতানিয়াহুর সংকটের ধরন আলাদা। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তার দল লিকুদ নেসেটের ১২০ আসনের মধ্যে এককভাবে পেয়েছে ২৭টি; জোট শরিকদের আসন মিলিয়ে সংখ্যাটি ৫৩। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ৬১ আসনের সমর্থন, যা তার নেই। বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮ আসন, তবে তাদের সমর্থন দিচ্ছে ১৯ আসন পাওয়া আরব দলগুলো—ফলে সরকার গঠনের দৌড়ে বিরোধীরাই অনেকটা এগিয়ে।
বুধবার ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল গ্রহণ করবেন এবং সরকার গঠনের জন্য সম্ভাবনাময় জোটের একজন নেতাকে দায়িত্ব দেবেন। দেশটির গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আরবদের সমর্থন বিরোধীদের পক্ষে থাকায় প্রথমে গাদি আইজেনকোটের সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি।
সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে নেতানিয়াহু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলেছেন। সিএনএনের প্রতিবেদন অনুযায়ী তিনি বলেছেন, ‘জয় চুরি হয়ে গেছে।’
বিরোধী জোটকে প্রেসিডেন্ট সরকার গঠনের দায়িত্ব দিলে তারা সময় পাবে ৪২ দিন; এ সময়ে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে হবে। তারা ব্যর্থ হলে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেতে পারেন নেতানিয়াহু। ২৮ অক্টোবর রয়টার্স বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছিল, তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুর ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাবে, বিশেষ করে নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়ে।
এদিকে ট্রাম্পের জন্য সবচেয়ে তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হবে কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্ক। ডেমোক্র্যাটরা এখন তদন্ত কমিটি গঠন, শুনানি ও তলবের ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখতে পারবে; বাজেট, ঋণসীমা, শুল্কনীতি ও যুদ্ধসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েন বাড়তে পারে।
তবে ফল সামনে আসার পর দ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ফল মেনে নিতে প্রস্তুত এবং ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে কাজ করতে আপত্তি নেই। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানো মানেই প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা শেষ নয়—তার হাতে ভেটোর ক্ষমতা ও নির্বাহী আদেশের সুযোগ থাকছে।
মঙ্গলবার এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান আবার শুরু করতে পারেন। একই প্রতিবেদনে ওয়াশিংটনভিত্তিক ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের রায়ান হাস বলেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্প ‘নিরলসভাবে সক্রিয়’ থাকবেন বলে মনে হয়।
নির্বাচনের আগের দিন সোমবারের ভাষণে ট্রাম্প নীতিগত বিষয় নিয়ে খুব একটা কথা বলেননি; বরং লিংকন মেমোরিয়ালের রিফ্লেক্টিং পুল সংস্কার ও ওয়াশিংটনকে আরও সুন্দর করে তোলার পরিকল্পনার কথা বলেন। এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্টদের অবসরের প্রস্তুতির মতো বার্তা দিয়েছে।


