ওলেশকি যুদ্ধবিরতির পর মেলানিয়া ট্রাম্পকে ইউক্রেনের সর্বোচ্চ সম্মাননা দিলেন জেলেনস্কি

যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নারীদের জন্য ইউক্রেনের সর্বোচ্চ সম্মাননা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
প্রেসিডেন্টের ডিক্রি অনুযায়ী, ‘ইউক্রেনের মানবিক সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত অবদানের’ জন্য মেলানিয়া ট্রাম্পকে অর্ডার অব প্রিন্সেস ওলহা, প্রথম শ্রেণি, দেওয়া হয়েছে।
এই সম্মাননা এসেছে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চল খেরসনে যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার পর। ওই যুদ্ধবিরতির ফলে রাশিয়ার দখলে থাকা ওলেশকি শহর থেকে কয়েক শ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছিল।
উদ্ধার অভিযানে জড়িত ওম্বুডসম্যান ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত রুশ ও ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণে হোয়াইট হাউসে বৈঠক করবে।
হোয়াইট হাউস বলেছে, মেলানিয়া ট্রাম্প ‘স্বাধীনভাবে দুই যুদ্ধরত দেশের মধ্যে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন এবং সফলভাবে একটি যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেছেন’। হোয়াইট হাউস আরও বলেছে, ‘এই অর্জন একজন আমেরিকান ফার্স্ট লেডির নজিরবিহীন কূটনৈতিক উদ্যোগ।’
যুদ্ধবিরতি আয়োজনের জন্য রুশ ও ইউক্রেনীয় — দুই পক্ষই বারবার মেলানিয়া ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছে, যদিও তাঁর সম্পৃক্ততার ধরন বা মাত্রা সম্পর্কে কেউই বিস্তারিত বলেনি।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে যাওয়া প্রতিনিধিদলে থাকবেন ইউক্রেনের মানবাধিকার ওম্বুডসম্যান দিমিত্রো লুবিনেৎস, তাঁর রুশ প্রতিপক্ষ ইয়ানা লানত্রাতোভা, ইউক্রেনীয় সংসদ সদস্য দাভিদ আরাখামিয়া এবং রুশ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিরিল দিমিত্রিয়েভ।
লুবিনেৎস ও লানত্রাতোভা গত সপ্তাহে একসঙ্গে ওলেশকিতে গিয়েছিলেন — রুশ ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের সহযোগিতার এক অস্বাভাবিক দৃষ্টান্ত হিসেবে।
আরাখামিয়া জেলেনস্কির দলের সংসদীয় প্রধান এবং এর আগে রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের অংশ ছিলেন। ইউক্রেনীয় গণমাধ্যমে উদ্ধৃত কূটনৈতিক সূত্র অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় হোয়াইট হাউস ও মস্কোর মধ্যে অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের দায়িত্বে ছিলেন তিনি; বৃহস্পতিবারের আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা তিনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, রুশ প্রতিনিধিদলে থাকবেন লানত্রাতোভা ও কিরিল দিমিত্রিয়েভ। দিমিত্রিয়েভ ক্রেমলিনের ঘনিষ্ঠ রুশ ব্যবসায়ী এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় তিনি প্রায়ই অংশ নিয়েছেন।
দিমিত্রিয়েভ ও আরাখামিয়া দুজনই উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনার অভিজ্ঞ অংশগ্রহণকারী। একজন আমেরিকান ফার্স্ট লেডির নেতৃত্বে উদ্যোগের মাধ্যমে এমন জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের বৈঠক আহ্বান করা অস্বাভাবিক।
হোয়াইট হাউসের অনুষ্ঠানে কী হবে, তার কোনো বিবরণ জানানো হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের পথে রওনা হওয়ার ঘোষণা দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে লুবিনেৎস বলেন, ‘সামনে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে।’
বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় (গ্রিনিচ মান সময় ১৬:০০) ওলেশকি যুদ্ধবিরতি নিয়ে মেলানিয়া ট্রাম্প বক্তব্য দেবেন বলেও হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে।
জেলেনস্কির ডিক্রিতে মেলানিয়া ট্রাম্পের বিস্তৃত মানবিক কাজের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনীয় শিশুদের নিয়ে তাঁর প্রচেষ্টা রয়েছে।
পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে মেলানিয়া ট্রাম্প মূলত আড়ালেই থেকেছেন। তবে ২০২৫ সালে তিনি বলেছিলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে একটি ‘খোলা যোগাযোগের চ্যানেল’ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার ফলে যুদ্ধে বাস্তুচ্যুত ইউক্রেনীয় শিশুদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলন সম্ভব হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে জাতিসংঘ বলেছে, ইউক্রেনীয় শিশুদের রাশিয়ায় নির্বাসন ও জোরপূর্বক স্থানান্তর মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধ।
ইউক্রেনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়া পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে প্রায় ২০ হাজার শিশুকে বেআইনিভাবে রাশিয়া ও বেলারুশে পাঠানো হয়েছে।
রুশ, ইউক্রেনীয় ও আমেরিকান প্রতিনিধিরা আগামী সপ্তাহে আবু ধাবিতেও বৈঠক করবেন — ফেব্রুয়ারির পর প্রথম ত্রিপক্ষীয় বৈঠক। যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ সোমবার বলেন, আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা চুক্তি ও উত্তেজনা প্রশমন।



