নিউইয়র্কে ধনীদের বিলাসবহুল দ্বিতীয় বাড়ির কর এগিয়ে নিতে আপিল আদালতে জিতলেন মেয়র মামদানি

নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বুধবার আইনি লড়াইয়ে জয় পেয়েছেন। রাজ্যের একটি আপিল আদালত নিম্ন আদালতের সেই রায় বাতিল করেছে, যেখানে তাঁর প্রশাসনকে উচ্চমূল্যের দ্বিতীয় বাড়ির ওপর কর চালুর প্রক্রিয়া নতুন করে শুরু করতে বলা হয়েছিল।
চার বিচারকের প্যানেল সর্বসম্মতভাবে বাড়ির মালিকদের মামলাটি খারিজ করে দিয়েছে। আদালত বলেছে, বাদীদের মামলা করার আইনি অধিকার বা ‘স্ট্যান্ডিং’ ছিল না।
এই রায়ের ফলে সেপ্টেম্বরে স্টেটেন আইল্যান্ডের এক বিচারকের দেওয়া রায়টি উল্টে গেল। ওই বিচারক নগর কর্তৃপক্ষকে করটির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া আবার শুরু করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন।
রায়ের ফলে মামদানি প্রশাসন এই অতিরিক্ত কর, যা ‘পিয়ে-আ-তেয়ার’ কর নামে পরিচিত, বাস্তবায়ন চালিয়ে যেতে পারবে। ধনী নিউইয়র্কবাসীদের ওপর কর বাড়িয়ে শহরের বাজেট ঘাটতি কমানো মামদানির কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে করটি এখনো আলাদা আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।
নিউইয়র্ক রাজ্য আইনসভা মে মাসে এই অতিরিক্ত কর অনুমোদন করে। এটি প্রযোজ্য হবে যোগ্য দ্বিতীয় বাড়ির ক্ষেত্রে—এক থেকে তিন পরিবারের সম্পত্তির মূল্য ৫০ লাখ ডলার বা তার বেশি হলে এবং কন্ডো ও কো-অপের ক্ষেত্রে মূল্য ১০ লাখ ডলার বা তার বেশি হলে।
শহরের অর্থ বিভাগ জুলাই মাসে প্রায় ১৭ হাজার সম্পত্তির মালিকের কাছে প্রাথমিক নির্ধারণের নোটিশ পাঠিয়েছিল।
স্টেটেন আইল্যান্ডের বিচারক ২৯ সেপ্টেম্বর রায় দিয়েছিলেন যে শহর কর্তৃপক্ষ চালুর প্রক্রিয়াটি ত্রুটিপূর্ণভাবে সামলেছে এবং কর্মকর্তাদের প্রক্রিয়াটি আবার শুরু করতে হবে। শহর কর্তৃপক্ষ আপিল করে এবং আপিল চলাকালেও কর বাস্তবায়ন চালিয়ে যায়।
আপিল বিচারকরা বলেছেন, প্রাথমিক কর নোটিশ পাওয়া কিংবা শহরের সম্পত্তি মূল্যায়ন তালিকায় নাম থাকা মামলা করার মতো যথেষ্ট ক্ষতি প্রমাণ করে না। আদালত বাড়ির মালিকদের সেই যুক্তিও প্রত্যাখ্যান করেছে যে প্রক্রিয়াটি গোপনীয়তা উদ্বেগ বা ছাড় চাওয়ার খরচের মাধ্যমে সুনির্দিষ্ট ক্ষতি করেছে।
মামদানি রায়কে স্বাগত জানিয়ে ধনী সম্পত্তির মালিকদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত কর এড়ানোর চেষ্টার অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘প্রথম দিন থেকেই যাদের সবচেয়ে বেশি আছে, তারা নিজেদের সম্পদ রক্ষা করতে এবং আমাদের শহরে আরও অবদান রাখা এড়াতে উপলব্ধ প্রতিটি আইনি পথ ব্যবহারের চেষ্টা করেছে।’
বাড়ির মালিকদের প্রতিনিধিত্বকারী আইনজীবী র্যান্ডি মাস্ত্রো আদালতের সমালোচনা করে বলেছেন, আদালত তাদের চ্যালেঞ্জের মূল বিষয় বিবেচনা না করেই মামলাটি খারিজ করেছে। তিনি বলেছেন, ‘শহর নিজেই স্বীকার করেছে এই অতিরিক্ত কর চালু করতে তারা গোলমাল করেছে, তারপরও আদালত আজ স্ট্যান্ডিংয়ের পদ্ধতিগত পথ নিয়ে মামলার মূল বিষয় এড়িয়ে গেল—এটি লজ্জাজনক।’
মাস্ত্রো আরও বলেছেন, শহর হাজার হাজার মানুষকে, যারা এই অতিরিক্ত কর দেন না, নিজের বাড়িতে বাস করেন তা প্রমাণ করতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে, নইলে তাদের কর দিতে হবে। তাঁর ভাষায়, এই ‘আইনবহির্ভূত ও বিশৃঙ্খল তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা’ এখন প্রতিকারহীন থেকে যাবে।
মাস্ত্রোর মতে, আগামী মাসে করটির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আরও একটি আইনি পরীক্ষা সামনে রয়েছে। মামদানি বলেছেন, সাফোক কাউন্টিতে আলাদা চ্যালেঞ্জগুলোর বিরুদ্ধেও তাঁর প্রশাসন আইনটি রক্ষা করে যাবে।




