ওয়াশিংটনে পারিবারিক সহিংসতার ডাকে গিয়ে গুলিবর্ষণে ডেপুটিসহ চারজন নিহত, আরেক ডেপুটি লাইফ সাপোর্টে

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্পোকেন কাউন্টিতে পারিবারিক সহিংসতার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়া শেরিফের ডেপুটিদের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক ডেপুটিসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। আহত আরেক ডেপুটি হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে আছেন, তবে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার এক নারী প্রতিবেশীর বাড়িতে ছুটে গিয়ে জানান, তার ভাই তাকে গুলি করেছেন। সেই খবর পেয়েই স্পোকেন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের ডেপুটিরা ঘটনাস্থলের বাড়িতে যান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মকর্তারা জানতে পারেন, সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে সক্রিয় ফেলোনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে এবং তার কাছে একাধিক বন্দুক আছে। বাড়ির ভেতরে আরও লোকজন ভুক্তভোগী হিসেবে আটকা থাকতে পারেন বলেও আশঙ্কা করা হয়।
পরিস্থিতির গুরুত্ব দেখে স্পোকেন কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় বাড়িটিতে সহায়তার জন্য সোয়াট (SWAT) দল মোতায়েন করে। সোয়াট সদস্যরা বাড়ির দিকে এগোতেই ভেতর থেকে এক বন্দুকধারী তাদের ওপর গুলি চালাতে শুরু করে।
স্পোকেন কাউন্টি শেরিফ জন নোয়েলস সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘সোয়াট দলের সদস্য ও ডেপুটিরা বাড়ির দিকে এগিয়ে দরজা ভাঙার চেষ্টা করতেই তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করা হয়।’
ডেপুটিরা পাল্টা গুলি চালান এবং আহত দুই ডেপুটিকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেন। দুজনকেই দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে গুলিবিদ্ধ ওই নারীকেও হাসপাতালে নেওয়া হয়; তার আঘাত প্রাণঘাতী নয় বলে জানানো হয়েছে।
পরে বাড়ির ভেতরে তল্লাশি চালিয়ে তদন্তকারীরা একজনের মরদেহ পান। বাড়ির উঠানেও আরেকজনের মরদেহ পাওয়া যায়। সন্দেহভাজন বন্দুকধারীকেও ওই সম্পত্তিতেই মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। নিহতদের পরিচয় এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বুধবার শেরিফের কার্যালয় নিশ্চিত করে, আহত দুই ডেপুটির একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।
আরেক ডেপুটি লাইফ সাপোর্টে থাকলেও তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা নেই বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। শেরিফের কার্যালয় জানায়, তিনি অঙ্গদাতা; সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, আর এভাবেই তিনি জীবনের উপহার দিয়ে অন্যদের সেবা করে যাবেন।
শেরিফের কার্যালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমাদের ডেপুটিরা ঝুঁকি জেনেও সাহসের সঙ্গে বিপদের দিকে এগিয়ে গেছেন, যাতে তারা এমন লোকজনকে রক্ষা করতে পারেন যাদের তারা চেনেনও না। তারা সম্মানের সঙ্গে এবং শপথের প্রতি অটল দায়িত্ববোধ থেকে নিজেদের প্রাণের ঝুঁকিতে ফেলেছেন।’




