শ্রমিকদের পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস ডিআইজি মুস্তাফিজুরের, বন্ধ কারখানা খুলে দিতে মালিকদের প্রতি আহ্বান

শ্রমিকদের পূর্ণ নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে বন্ধ কারখানা খুলে দিতে মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মুস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেছেন, কারখানা, রাস্তাঘাট ও আবাসস্থল—সব জায়গায় শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে আশুলিয়ায় ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ডিইপিজেড) পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন উপস্থিত ছিলেন।
ডিআইজি বলেন, ঢাকা রেঞ্জের আওতাধীন গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভার এলাকায় পূর্ণোদ্যমে কাজ চলছে। আশুলিয়ায় গুটিকয়েক কারখানা ছাড়া অন্য সব জায়গায় নিরাপদে কাজকর্ম চলছে। ডিইপিজেডের সব কারখানাও খোলা রয়েছে এবং উৎপাদন অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।
যেসব কারখানা বন্ধ রয়েছে, সেগুলোর শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তায় ঢাকা জেলায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদাপোশাকেও পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।
মজুরি বোর্ড গঠনের প্রসঙ্গ টেনে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, চলতি মাসের ১ তারিখে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বুধবার (৪ নভেম্বর) বোর্ডের প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশাসনের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই এবং বর্তমান সরকারও শ্রমিকবান্ধব বলে তিনি মন্তব্য করেন।
চলমান শ্রমিক অসন্তোষের পেছনে অন্য গোষ্ঠীর ইন্ধন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন ডিআইজি। তিনি বলেন, বুধবার সাভারে শ্রমিকপক্ষের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সেখানে তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, চলমান আন্দোলন তাদের নয় এবং এর সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাদের দাবি ছিল মজুরি বোর্ড গঠন করা, সেটি হয়েছে এবং বোর্ডের প্রথম বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, শ্রমিক আন্দোলনের নামে একটি নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী শ্রমিকদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।
নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, গত তিন-চার দিন ধরে এ বিষয়ে সতর্ক করা হচ্ছে। আশুলিয়া ও সাভার থানায় ২৫ থেকে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কেউই শ্রমিক নন বলে তিনি দাবি করেন। এ-সংক্রান্ত আটটি মামলা হয়েছে এবং আরও কয়েকটি মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে তিনি জানান।
শ্রমিকদের উদ্দেশে ডিআইজি বলেন, যারা তাদের আবেগকে পুঁজি করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছেন, তাদের প্রতিহত করার দায়িত্ব শ্রমিকদেরও রয়েছে। আশুলিয়ার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদেরও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং পুলিশকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। এলাকার অনেক মানুষ শ্রম খাতের ওপর নির্ভরশীল এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাসাবাড়ি থেকে শ্রমিকদের অন্যায়ভাবে আটকের আশঙ্কা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ডিআইজি বলেন, শ্রমিকেরা কারখানা, রাস্তাঘাট ও নিজেদের আবাসস্থল—সব জায়গায় নিরাপত্তা পাবেন। ইতিমধ্যে শ্রমিকদের আবাসস্থলগুলোতে পুলিশের মোবাইল ও পেট্রোল টিম টহল দিচ্ছে। পাশাপাশি কারা শ্রমিকদের ভয় দেখাচ্ছে ও তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, সে বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
শ্রমিকদের অর্থনীতির প্রকৃত যোদ্ধা উল্লেখ করে মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাদের শ্রমের ফলেই দেশের রপ্তানি আয় আসে এবং অর্থনীতি সচল থাকে। শ্রমিকদের প্রতি পুলিশ ও সরকার অত্যন্ত সদয়। তবে তাদের নাম ব্যবহার করে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে বলে তিনি জানান।




