মিসিসিপি সিনেট লড়াইয়ে এগিয়ে গেলেন ডেমোক্র্যাট কলোম, ব্যবধান বেড়ে ১ হাজার ১৩৮ ভোট

যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে সিনেট আসনের লড়াইয়ে রিপাবলিকান সিনেটর সিন্ডি হাইড-স্মিথের চেয়ে এগিয়ে গেছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী স্কট কলোম। বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৯৬ শতাংশ ভোট গণনা শেষে কলোম ১ হাজার ১৩৮ ভোটে এগিয়ে ছিলেন।
তবে এই লড়াইয়ের ফল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আরও প্রায় ৫০ হাজার ব্যালট গণনা বাকি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মিসিসিপি ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে নির্বাচিত করেনি। গভীর রক্ষণশীল এই অঙ্গরাজ্যে এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াই তাই অস্বাভাবিক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
হাইড-স্মিথ মিসিসিপি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে প্রতিনিধিত্ব করা প্রথম নারী। ২০১৮ সালে তিনি নির্বাচিত হন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প এই অঙ্গরাজ্যে ২২ পয়েন্টের বেশি ব্যবধানে জিতেছিলেন।
ভোট গণনার শুরুতে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট গণনার পর হাইড-স্মিথ এগিয়ে ছিলেন। পরে আরও ব্যালট গণনা এগোতে থাকলে কলোম ধীরে ধীরে ছোট ব্যবধানে এগিয়ে যান। বুধবার সকালে তাঁর ব্যবধান ছিল মাত্র কয়েক ডজন ভোট।
কলোম জিতলে তিনি হবেন ১৮৭৫ সালের পর মিসিসিপি থেকে নির্বাচিত প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন সিনেটর।
মিসিসিপিতে ঘনিষ্ঠ লড়াইয়ের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় পুনর্গণনার ব্যবস্থা নেই এবং প্রার্থীরা পুনর্গণনার অনুরোধও করতে পারেন না। নির্বাচনের দিনের ডাকমোহর থাকলে ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট তার পরের পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে পৌঁছালেও গণনা করা হয়।
ইউনিভার্সিটি অব মিসিসিপির রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক জুলি রনস্কি বলেন, দুই প্রার্থীর ব্যবধান এত কম হওয়ায় প্রতিটি ভোট গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তাঁর মতে, এই আসনের ফল অন্তত ১০ নভেম্বরের আগে ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি কলোম প্রচারে তাঁর খ্রিস্টীয় বিশ্বাস এবং অর্থনৈতিক উদ্বেগ মোকাবিলার পরিকল্পনাকে সামনে রেখেছেন। তিনি ট্রাম্পের নীতির সমালোচনা করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি।
রনস্কির মতে, ২০১৮ সালে শূন্য আসনে নিয়োগ পেয়ে দায়িত্ব নেওয়া হাইড-স্মিথ এবার তুলনামূলক নিষ্প্রভ প্রচার চালিয়েছেন এবং অঙ্গরাজ্যের নির্ভরযোগ্যভাবে রক্ষণশীল ভোটার ঘাঁটির ওপর ভরসা করেছেন। তাঁর জনসমক্ষে উপস্থিতি কম থাকা ছিল চোখে পড়ার মতো।
গত মাসে ট্রাম্প হাইড-স্মিথের সঙ্গে প্রচারে অংশ নিয়ে বলেছিলেন, সিন্ডি ভালো করছেন বলেই তিনি এসেছেন, তবে কোনো ঝুঁকি নিতে চান না।
মিসিসিপিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হারে, প্রায় ৪০ শতাংশ, আফ্রিকান আমেরিকান বাস করেন। এই ভোটাররা বিপুলভাবে ডেমোক্র্যাটদের ভোট দেন এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী এবার বড় সংখ্যায় ভোট দিতে এসেছেন।
এনএএসিপির মিসিসিপি শাখার পরিচালক চার্লস টেলর বিবিসিকে বলেন, নির্বাচনের দিনের আগে পর্যন্ত কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের অংশগ্রহণে তাঁর সংগঠন ব্যাপক উত্থান দেখেছে। অনুপস্থিত ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য লম্বা লাইন দেখা গেছে, নির্বাচনের দিন সশরীরে ভোটের ক্ষেত্রেও একই চিত্র ছিল।
অক্টোবরে ওয়াশিংটন পোস্টকে কলোম বলেছিলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে রিপাবলিকানদের বড় জয়ের কারণে ডেমোক্র্যাটরা সাধারণত মিসিসিপিতে ভালো করতে পারেননি এবং সম্পদ অন্যত্র পাঠিয়েছেন। ২০২০ সালে ডেমোক্র্যাটরা সাবেক কৃষি সচিব মাইক এসপিকে সমর্থন দিলেও তিনি হাইড-স্মিথের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছিলেন।
জাতীয় পর্যায়ের ডেমোক্র্যাটরা মিসিসিপিকে গুরুত্ব না দিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছেন বলে মন্তব্য করেন কলোম। তিনি বলেন, শ্রমজীবী মানুষের পাশে থাকার দাবি করা একটি দল মিসিসিপির সংগ্রামী গ্রামীণ শ্রমজীবীদের উপেক্ষা করতে পারে না।
এই লড়াই এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের দুই কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ জিতেছে এবং সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস ও কানসাসের মতো গভীর রিপাবলিকান অঙ্গরাজ্যে জয় পেয়েছে, যেখানে কয়েক দশক ধরে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি মিসিসিপির এই লড়াইয়ে অতিরিক্ত তহবিল পাঠিয়েছিল, কারণ তারা আসনটি ছিনিয়ে নেওয়ার অপ্রত্যাশিত সুযোগ দেখেছিল।




