যাত্রাবাড়ীতে মাদরাসাছাত্র আরিফ হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠাল আদালত
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদরাসাছাত্র আরিফ নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এই নির্দেশ দেন।
শুনানির আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আমির হোসেন আসামিকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন না জানিয়ে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। সেই আবেদনের ওপর শুনানি শেষে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফারুক হোসেন ফারুকী আদালতে তুলে ধরেন, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই কোটাবিরোধী আন্দোলনের সময় যাত্রাবাড়ীর কুতুবখালী এলাকার বউবাজার সড়কে সংঘর্ষ চলাকালে চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান লর্ড হার্ডিঞ্জ ফাযিল মাদরাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফ।
এই ঘটনায় নিহতের পিতা ইউসুফ বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন। সেই মামলার ৫৩ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি ইকবাল সোবহান চৌধুরী।
রাষ্ট্রপক্ষ শুনানিতে আরও যুক্তি দেয়, বিগত সরকারের সময়ে ইকবাল সোবহান চৌধুরী গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন; এসব উল্লেখ করে তাঁকে কারাগারে রাখার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জামিন প্রার্থনা করেননি। তাঁরা ইকবাল সোবহান চৌধুরীর জ্যেষ্ঠতা ও শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কারাগারে উন্নত চিকিৎসা এবং উপযুক্ত ডিভিশন সুবিধা চেয়ে দুটি পৃথক আবেদন পেশ করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে গোয়েন্দা পুলিশের একটি মাইক্রোবাসে করে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আদালত চত্বরে আনা হয়। তাঁকে হাজতখানায় রাখার পর কড়া পুলিশি পাহারায় এজলাসে তুলে শুনানি সম্পন্ন করা হয়।
এর আগে বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত একটি গণমাধ্যমের কার্যালয় থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং একই গণমাধ্যমের প্রধান অপরাধ প্রতিবেদক রাজীব ঘোষকে ডিবি হেফাজতে নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, একটি সংবাদ প্রচারের জেরে কার্যালয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রেক্ষাপটে তাঁদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তীতে বুধবার দিবাগত রাতে যাত্রাবাড়ীর ওই হত্যা মামলায় ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তিনি একটি শীর্ষ দৈনিক গণমাধ্যমের সম্পাদক ও প্রকাশকের দায়িত্বেও রয়েছেন।
তাঁর সঙ্গে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া ওই গণমাধ্যমের বিশেষ প্রতিনিধি রাজীব ঘোষকে মুচলেকা নিয়ে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে গোয়েন্দা পুলিশ নিশ্চিত করেছে।




