সিলেট টেস্টের প্রথম দিনে জাঙ্গুর অপরাজিত সেঞ্চুরি, দিনশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ২৩৫/৪, চাপে বাংলাদেশ
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের প্রথম দিনে শুরুতে আশা জাগালেও দিনশেষে হতাশা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। টস হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে পেসারদের কল্যাণে শুরুতেই সফরকারীদের চেপে ধরেছিল স্বাগতিকরা। তবে আমির জাঙ্গুর দায়িত্বশীল অপরাজিত শতকে ভর করে বড় সংগ্রহের ভিত পেয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
মিরপুর টেস্টের মতো সিলেটেও আলোকস্বল্পতার কারণে দিনের খেলা আগেই সমাপ্ত ঘোষণা করতে হয়। প্রথম দিনে সব মিলিয়ে মাঠে গড়িয়েছে ৭০ ওভার। দিন শেষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট হারিয়ে ২৩৫ রান সংগ্রহ করেছে ক্যারিবীয়রা।
টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের শুরুতেই বিপর্যায়ে পড়েছিল সফরকারী দল। দলীয় ১৩ রানে প্রথম উইকেট পতনের পর মাত্র ২৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে পড়ে তারা। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওপেনার ব্র্যান্ডন কিংকে (৯) বোল্ড করে প্রথম আঘাত হানেন তাসকিন আহমেদ।
এরপর ক্রিজে এসে টিকতে পারেননি কাভেম হজ; ব্যক্তিগত ১ রানে তিনি পেসার হাসান মাহমুদের বলে বোল্ড হন। নবম ওভারে জশুয়া ডা সিলভাকে (১২) ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় শিকার নিশ্চিত করেন তাসকিন। দিনে পতন হওয়া চার উইকেটের দুটি করে ভাগ করে নেন তাসকিন ও হাসান।
চরম ব্যাটিং বিপর্যায়ের মুখে চতুর্থ উইকেটে ১৩১ রানের জুটি গড়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন আমির জাঙ্গু ও অভিষিক্ত ব্যাটার কেভিন উইকহ্যাম। ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক টেস্ট খেলতে নেমে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে ব্যক্তিগত ফিফটি তুলে নেন উইকহ্যাম।
উইকহ্যামকে ৬১ রানে বোল্ড করে এই জুটি ভাঙেন হাসান মাহমুদ; ১৪৫ বলের ইনিংসে তিনি ৫টি চারের মার মারেন। উইকহ্যামের বিদায়ের পর পঞ্চম উইকেটে জাস্টিন গ্রিভসকে সঙ্গী করে দলকে এগিয়ে নেন জাঙ্গু।
স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ১৪৯ বলে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় শতক তুলে নেন জাঙ্গু। এর মধ্য দিয়ে এশিয়ার মাটিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাত্র তৃতীয় কিপার-ব্যাটার হিসেবে টেস্ট সেঞ্চুরির কীর্তি গড়েন তিনি। দিন শেষে ১৭১ বলে ১১টি চার ও দুটি ছক্কায় ১১১ রানে অপরাজিত আছেন জাঙ্গু এবং অপর প্রান্তে ৬২ বলে ৩৫ রান নিয়ে অপরাজিত রয়েছেন গ্রিভস।
ম্যাচে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ ও একাদশ নির্বাচন নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সিলেটের উইকেটে সাধারণত তিন পেসার নিয়ে খেললেও মিরপুর টেস্টে পরাজয়ের পর এই ম্যাচে দুই পেসার ও তিন বিশেষজ্ঞ স্পিনার নিয়ে দল সাজায় বাংলাদেশ। তবে পেসাররা সুযোগ তৈরি করলেও পুরো দিনে স্পিনাররা ছিলেন নিষ্প্রভ; তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাঈম হাসানের কেউই উইকেটের দেখা পাননি। প্রথম সেশনের সুবিধাজনক অবস্থান হাতছাড়া করে দিনশেষে বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে চলে যেতে হয়েছে।




