মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের জয়জয়কার, স্বাস্থ্যই ছিল প্রধান ইস্যু

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সারা দেশে ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের জয়ের ধারাকে ‘স্টেম সোয়িং’ ও ‘নার্ডদের প্রতিশোধ’ বলে অভিহিত করছে তাঁদের নির্বাচিত করতে কাজ করা একটি রাজনৈতিক সংগঠন। মার্কিন স্বাস্থ্য ও বিজ্ঞান অবকাঠামোয় বছরের পর বছর কাটছাঁট ও অস্থিরতার পর এই জয় এসেছে।
ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্যবিষয়ক বিজ্ঞাপনে বড় অঙ্ক ব্যয় করেছেন এবং ভোটাররা ‘মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ (মাহা) আন্দোলনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সারা দেশে ডেমোক্র্যাট স্বাস্থ্য পেশাজীবী ও বিজ্ঞানীদের নির্বাচিত করতে কাজ করা সংগঠন ৩.১৪ অ্যাকশনের নির্বাহী পরিচালক এরিক পলিয়াক বলেন, ‘ফলাফল থেকে এটা স্পষ্ট: ২০২৬ ছিল একটি স্বাস্থ্যসেবার নির্বাচন। আমরা সাশ্রয় নিয়ে অনেক কথা শুনেছি। স্বাস্থ্যসেবার সাশ্রয়ই তার এক নম্বর অংশ। আমাদের চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা এসব ইস্যুতে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অবশ্যই ভালোভাবে প্রস্তুত।’
ইতিহাস গড়া আইনপ্রণেতাদের মধ্যে রয়েছেন মিশিগানের ডেমোক্র্যাট ডা. আবদুল এল-সায়েদ এবং সাউথ ক্যারোলাইনার ডা. অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। মার্কিন সিনেটে সর্বশেষ কোনো ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক আসন পেয়েছিলেন ১৯৬৯ সালে — যে যুগে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড আইনে পরিণত হয়েছিল।
৩.১৪ অ্যাকশন এখনো জয়ের হিসাব মেলাচ্ছে এবং ‘শত শত’ ছোট রাজ্য-পর্যায়ের লড়াইয়ের ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছে, যেগুলোর কয়েকটির ফল এখনো প্রকাশই হয়নি।
রবার্ট উড জনসন ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী ডা. রিচার্ড বেসার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ভোটারদের বার্তা সহজ ও স্পষ্ট: যথেষ্ট হয়েছে।’ তিনি বলেন, সারা আমেরিকার মানুষ জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ে হতাশ, জীবিকা নির্বাহে ক্লান্ত এবং অত্যন্ত ব্যয়বহুল ও জটিল স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় বিরক্ত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসে চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন নেতৃত্বের ভূমিকায় থাকলেও এই নির্বাচনের আগে তাঁদের বেশির ভাগই ছিলেন রিপাবলিকান। ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের চিকিৎসক সদস্যদের ৮৬ শতাংশ ছিলেন রিপাবলিকান এবং তিন-চতুর্থাংশ ছিলেন দক্ষিণের রাজ্যগুলো থেকে।
২০২৬ সালের নির্বাচন সেই চিত্র উল্টে দিয়েছে। মার্কিন স্বাস্থ্যমন্ত্রী রবার্ট এফ. কেনেডি জুনিয়রের মিত্র আইওয়ার রিপাবলিকান ডা. মেরিয়ানেট মিলার-মিকস এবং সিনেট প্রার্থী ডা. রজার মার্শাল হেরে গেছেন। আরও তিনজন রিপাবলিকান চিকিৎসকের লড়াই এতটাই কাছাকাছি ছিল যে ফল ঘোষণা করা যায়নি। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন সব ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক তাঁদের লড়াইয়ে জিতেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সিডিসি রেকর্ডভাঙা হামের প্রাদুর্ভাবের মাঝে তার কর্মীদের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত হারিয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম সরকারি জীবচিকিৎসা গবেষণা অর্থদাতা এনআইএইচ নেতৃত্ব হারিয়েছে এবং বিঘ্ন, বাতিল ও সেন্সরশিপের মধ্যে যুগান্তকারী গবেষণা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নির্বাচনের দিন নিউইয়র্কের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজ্যটিতে ৩০ বছরের মধ্যে প্রথমবার হামে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
কুক পলিটিক্যাল রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রচারণার বিজ্ঞাপনে স্বাস্থ্যসেবা ছিল দ্বিতীয় বৃহত্তম ইস্যু; ডেমোক্র্যাটরা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ১ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি বিজ্ঞাপন চালিয়েছেন, বিপরীতে রিপাবলিকানদের ছিল ৬১ হাজার। শুধু ৩.১৪ অ্যাকশনই স্বতন্ত্র বিজ্ঞাপনে ২ কোটি ৩০ লাখ ডলার ব্যয় করেছে।
ওহাইওতে ডা. অ্যামি অ্যাক্টন জিতেছেন; কোভিড-১৯-এর সময় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হয়েছে। আইওয়ায় ডেমোক্র্যাট ক্রিস্টিনা বোহানান, যিনি চিকিৎসক নন, একজন আইনের অধ্যাপক, ক্রমবর্ধমান ক্যানসারের হার রাজ্যে দ্বিদলীয় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে ওঠায় গবেষণায় আরও ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পলিয়াক বলেন, ‘বিজ্ঞানে বিশ্বাসী আমেরিকানরা উদ্দীপ্ত। আমরা অন্তত ১০টি রিপাবলিকান আসন উল্টে দিয়েছি এবং চূড়ান্ত সংখ্যাটি তিরিশের কোঠার নিচের দিকে। ২০২৬ সালে হাউসের নিয়ন্ত্রণ উল্টে দেওয়ার পথ গেছে ডেমোক্র্যাট চিকিৎসক ও বিজ্ঞানীদের মধ্য দিয়ে — আর আমরাই সেই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছি।’
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ওয়ান বিগ বিউটিফুল বিল অ্যাক্ট’-এর সবচেয়ে কঠোর কাটছাঁট কার্যকর হবে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে, যার মধ্যে মেডিকেইডের জন্য কাজের শর্তও রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী এক দশকে ১ কোটি ৭০ লাখ মানুষ বীমা হারাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



