যুক্তরাজ্যে ২ লাখ সফল আশ্রয়প্রার্থীর জন্য স্থায়ী বসবাসের অপেক্ষা ৩০ বছর পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনায় সমালোচনা

যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ শরণার্থীদের স্থায়ী বসবাসের নিয়ম কঠোর করার পরিকল্পনা নীরবে এগিয়ে নেওয়ায় ‘দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা’ তৈরির অভিযোগ উঠেছে। রিফিউজি কাউন্সিল বলেছে, এই পরিবর্তনে সফল আশ্রয়প্রার্থীদের একটি বড় অংশকে ৩০ বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২ লাখ সফল আশ্রয়প্রার্থীর একটি দলকে আগে বলা হয়েছিল তারা পাঁচ বছর পর অনির্দিষ্টকালের থাকার অনুমতির (ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন) জন্য আবেদন করতে পারবেন। নতুন পরিকল্পনায় তাদের মর্যাদা প্রতি ৩০ মাস অন্তর পর্যালোচনা করা হবে।
শাবানা মাহমুদ সোমবার অভিবাসনসংক্রান্ত একগুচ্ছ প্রস্তাব ঘোষণা করেন। তার মধ্যে কিছু প্রস্তাবে ট্রেড ইউনিয়ন, মন্ত্রিসভার সদস্য ও লেবার দলের ব্যাকবেঞ্চ সংসদ সদস্যদের উদ্বেগের পর কেয়ার কর্মী ও তাদের পরিবারের জন্য নিয়ম কিছুটা শিথিল করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ছোট নৌকাসহ অনিয়মিত পথে আসা শরণার্থীদের যুক্তরাজ্যে স্থায়ী বসবাসের জন্য ৩০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।
গত বছরের পরামর্শ প্রক্রিয়ায় অনিয়মিতভাবে আসা ব্যক্তিদের জন্য ১০ বছরের জরিমানার প্রস্তাব ছিল। তবে তা শরণার্থী মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে বলে আশা করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মাহমুদ গত বছর লিখেছিলেন, শরণার্থীরা ওই ১০ বছরের জরিমানা থেকে রেহাই পাবেন। ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে ডোভারের সাদা পাহাড়ের ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, যারা অবৈধ প্রবেশকারী কিন্তু শরণার্থী নন, তাদের স্থায়ী বসবাসের জন্য ৩০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।
হাউস অব কমন্স লাইব্রেরি মাহমুদের ওই পোস্টকে প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে যে শুধু অবৈধ প্রবেশ বা মেয়াদোত্তীর্ণ থাকার পর ভিসা পাওয়া অ-শরণার্থীদেরই ৩০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মার্চ মাসে সরকার লাখ লাখ আশ্রয়দাবিদারকে আশ্বস্ত করেছিল যে, আবেদন ইতিমধ্যে জমা পড়ে থাকলে তারা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তখনকার ব্যাখ্যামূলক স্মারকে বলা হয়েছিল, ২০২৬ সালের ১ মার্চের মধ্যে আশ্রয় বা পরবর্তী আবেদনের ভিত্তিতে পাঁচ বছরের থাকার অনুমতি পাওয়া প্রাপ্তবয়স্ক এবং সঙ্গীসহ ও সঙ্গীহীন শিশুরা পাঁচ বছর পর স্থায়ী বসবাসের যোগ্য থাকবেন।
সোমবার প্রকাশিত সরকারের সর্বশেষ অভিবাসন পরিকল্পনার ছোট হরফে সেই নিশ্চয়তা নীরবে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ‘আ ফেয়ারার পাথওয়ে টু সেটেলমেন্ট’ শীর্ষক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথির ১৪ নম্বর পাদটীকা অনুযায়ী, নিরাপদ ও বৈধ পথে না আসা এবং ২০২৬ সালের ২ মার্চের আগে আশ্রয় দাবি করা শরণার্থীরা ‘কোর প্রোটেকশন’-এ যাবেন।
কোর প্রোটেকশন ব্যবস্থায় প্রাপ্তবয়স্ক ও তাদের শিশুরা প্রথমে মাত্র ৩০ মাসের থাকার অনুমতি পান, যা নবায়ন করতে হয়। নিজ দেশের পরিস্থিতি নিরাপদ মনে হলে তাদের শরণার্থী মর্যাদা বাতিলও হতে পারে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
রিফিউজি কাউন্সিলের প্রধান নীতি বিশ্লেষক জন ফিটনবি বলেছেন, শরণার্থীদের কী প্রত্যাশা করা উচিত, তা বারবার বদলালে দুর্ভোগ ও বিপুল অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। তাঁর ভাষায়, যেসব শরণার্থী ভেবেছিলেন তারা কয়েক সপ্তাহ বা মাসের মধ্যে স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন, তাদের এখন আরও ২৫ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে এবং প্রতি ৩০ মাস মেয়াদ শেষ হওয়া অস্থায়ী মর্যাদা নিয়ে দশকের পর দশক ভয় ও অনিশ্চয়তায় থেকে নতুন জীবন শুরু করা অসম্ভব।
ফিটনবি আরও বলেন, এই পরিকল্পনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েও বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে, কারণ দশকের পর দশক ধরে বারবার অতিরিক্ত আবেদন প্রক্রিয়া করতে হবে এবং তাতে জনগণের অর্থের বিপুল ব্যয় হবে।
রিফিউজি কাউন্সিলের বিশ্লেষণের জবাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, গত বছরের প্রস্তাবের পর থেকে নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে মাহমুদের এক্স পোস্ট বা সাম্প্রতিক নথির পাদটীকা নিয়ে তারা আর মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।
মাহমুদ সোমবার সংসদ সদস্যদের বলেছেন, যুক্তরাজ্যে চিরকাল থাকার অধিকার আর অভিবাসীদের প্রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে পাঁচ বছর পর দেওয়া হবে না; নতুন ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ মডেলে তা অর্জন করে নিতে হবে, যা তিনি সেদিন সংসদে উপস্থাপন করেন।




