টেকনাফে পাচারকারীদের গুলিতে আহত সেনাসদস্য তিতাস শেখ রামু সিএমএইচে মারা গেছেন, উদ্ধার ৫৭ জিম্মি

কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় গুলিবিদ্ধ সেনাসদস্য মো. তিতাস শেখ মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে রামুর ১০ পদাতিক ডিভিশনের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। রাত ৮টা ৪৮ মিনিটে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গোয়েন্দা সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫-১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ আভিযানিক দল বৃহস্পতিবার আনুমানিক বিকেল ৫টায় ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
আইএসপিআর আরও জানায়, যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করলে উভয় পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। গুলি বিনিময়ের একপর্যায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক মো. তিতাস শেখ (২৭) বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং তাঁর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য অনুযায়ী, সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ে দুই শতাধিক মানুষকে আটকে রেখেছিল একটি পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। বৃহস্পতিবার বেলা দুইটা থেকে বিকেল ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত যৌথ বাহিনী তাঁদের উদ্ধারে অভিযান চালায়। রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবির ২৪ ও ২৬-এর মধ্যবর্তী কাঁটাতারের বেড়া থেকে ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার পশ্চিমের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে পাহাড়ে অভিযান চলাকালে সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলি তিতাস শেখের বুকে লাগে। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে টেকনাফের লেদা আইআরসি রোহিঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে রামু সিএমএইচে নেওয়া হয়।
নিহত তিতাস শেখ ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের আফজাল হোসেনের ছেলে। তিনি বিবাহিত ছিলেন। টেকনাফের রঙ্গিখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত তিতাস অভিযানে অংশ নিয়েছিলেন।
১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক ও অতিরিক্ত ডিআইজি মো. কাওসার সিকদার বলেন, যৌথভাবে পাহাড়ে অভিযান চালানো হচ্ছিল। এ সময় সন্ত্রাসীদের সঙ্গে গোলাগুলিতে সেনাসদস্য তিতাস শেখ গুলিবিদ্ধ হন। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়েছে।
অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক এবং জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়।
দেশমাতৃকার সেবায় কর্তব্যরত অবস্থায় এই তরুণ সেনাসদস্যের আত্মত্যাগ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে। একই সঙ্গে সেনাবাহিনী তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে।




