দিনাজপুরে প্রতি শুক্রবার রান্না করা গরুর মাংস কিনতে ভিড়, কালাভুনা কেজি ৮৫০ টাকা

প্রতি শুক্রবার দিনাজপুর জেলা সদরের বিভিন্ন মোড়ে অস্থায়ী দোকানে ডেগভর্তি রান্না করা গরুর মাংস নিয়ে হাজির হচ্ছেন বাবুর্চিরা। সেখানে গরুর মাংসের পাশাপাশি কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে মুরগির রোস্ট ও পোলাও।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শহরের ছয় রাস্তার মোড়, স্টাফ কোয়ার্টার মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে রান্না করা খাবার নিয়ে দোকান সাজিয়ে বসেন তারা।
জানা গেছে, বছরখানেক আগে সেতাবগঞ্জে এক বাবুর্চি প্রতি শুক্রবার ৮০০ টাকা কেজি দরে রান্না করা গরুর মাংস বিক্রি শুরু করেন। তাকে দেখে দিনাজপুর জেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়েও রান্না করা গরুর মাংস বিক্রি শুরু করেন বাবুর্চিরা।
বাজারে কাঁচা মাংসের দাম ও রান্না করা মাংসের দাম প্রায় একই হওয়ায় এসব অস্থায়ী দোকানে ক্রেতাদের ভিড় জমছে বলে জানা গেছে।
এসব দোকানে রান্না করা গরুর মাংসের কালাভুনা প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা, মুরগির রোস্ট ৭০০ টাকা, জর্দা পোলাও ৪০০ টাকা এবং শাহী পোলাও ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া টিকিয়া ও বড়া বিক্রি হচ্ছে প্রতিটি ১০ টাকায়।
বিরল উপজেলার তেঘরা গ্রাম থেকে দিনাজপুর শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে রান্না করা খাবার কিনতে এসেছেন খায়রুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাড়িতে রান্না করার মতো কেউ নেই। মানুষের মুখে শুনে এখানে এসেছি। এবার ভালো লাগলে পরবর্তী সময়ে আবারও আসব। কাঁচা মাংস কিনে রান্না করার খরচ আর রান্না করা মাংসের দাম প্রায় একই পড়ে যায়।
শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন বলেন, শুক্রবার বাসায় কী রান্না করা যায়, তা নিয়ে সব সময় চিন্তা করি। কিন্তু আজ হঠাৎ করেই এখান থেকে রান্না করা খাবার নিতে এসেছি। মানুষের মুখে এ নিয়ে অনেক কথা শুনেছি। তাই কিনতে এলাম।
আরেক ক্রেতা মঈনুল হক বলেন, বাজারে কাঁচা মাংস নিলে হাড় ও চর্বির পরিমাণ বেশি থাকে। রান্না করা মাংস নিলে এতে হাড় ও চর্বির পরিমাণ কম থাকে। এ মাংসের আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে এতে ভিন্ন স্বাদ পাওয়া যায়। তাই তিনি রান্না করা মাংস নিতে এসেছেন।
গৃহবধূ নারগিস বেগম বলেন, শুক্রবার সাধারণত বাসায় ভালো কিছু রান্না করা হয়। কিন্তু প্রতি শুক্রবার এখানে অনেক ভিড় দেখি। তাই আজ আমিও কিনতে এসেছি।
দিনাজপুরের পরিচিত বাবুর্চি ভাদু বাবুর্চি বলেন, অনেক দিন আগেই ছয় রাস্তার মোড়ে দোকান দিয়েছি। আমাদের দেখে শহরের বিভিন্ন জায়গায় শুক্রবার করে অনেকেই দোকান বসাতেন। তবে অনেক দোকান এখন বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা এখনো প্রতি শুক্রবার রান্না করা খাবার বিক্রি করছি। ক্রেতার সংখ্যাও অনেক বেড়েছে।

