সিলেটে টেস্ট ক্রিকেট দেখতে স্টাডি ট্যুরে কুলাউড়ার তিন শতাধিক শিক্ষার্থী, হাসানের জোড়া আঘাতে উচ্ছ্বাস

টেলিভিশনের পর্দায় এত দিন ক্রিকেট খেলা দেখেছেন তারা; এবার সরাসরি মাঠে বসে প্রিয় খেলা দেখার সুযোগ হলো। মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা গার্লস স্কুলের প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থী শুক্রবার (৬ নভেম্বর) স্টাডি ট্যুরে এসে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের খেলা দেখেছে।
গায়ে একই রঙের পোশাক, সারি সারি আসন আর হাতে স্টাডি ট্যুরের ব্যানার নিয়ে শুক্রবার সকাল থেকেই স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে এমন দৃশ্য দেখা যায়। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে রয়েছে একই প্রতিষ্ঠানের কিডস ওয়ার্ল্ড স্কুলের শিক্ষার্থীরাও।
শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার খেলা চলার সময় স্টেডিয়ামে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা। তখন ব্যাটিংয়ে থাকা ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুই ব্যাটসম্যান আমির জাঙ্গু ও জাস্টিন গ্রিভসের জুটি বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছিল।
এমন সময় বাংলাদেশের পেসার হাসান মাহমুদ পরপর দুই বলে দুটি উইকেট তুলে নিলে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ে গ্যালারি। শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ওঠে স্লোগান ‘হাসান, উইকেট’।
শিক্ষার্থীদের অনেকের জন্য মাঠে বসে ক্রিকেট দেখার অভিজ্ঞতা ছিল একেবারেই নতুন। ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী সামিরা জাহান বলে, আগে কখনো মাঠে বসে খেলা দেখেনি সে; এবারই প্রথম এসেছে এবং তার কাছে অভিজ্ঞতাটি খুবই ভালো লাগছে।
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত আক্তার বলে, টেলিভিশনে খেলা দেখলেও মাঠে এসে খেলোয়াড়দের কাছ থেকে দেখা অন্য রকম অনুভূতি। সবাই একসঙ্গে চিৎকার করে খেলা উপভোগ করায় আনন্দ আরও বেড়েছে।
শিক্ষার্থীদের নিয়ে স্টেডিয়ামে এসেছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজওয়ান চৌধুরী। তিনি বলেন, প্রতি বছরই বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষাসফরের আয়োজন করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা দেওয়ার চেষ্টা থাকে। এবার সেই ভাবনা থেকেই তাদের ক্রিকেট মাঠে নিয়ে আসা হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এসেছেন অভিভাবকেরাও। তাদের একজন শারমিন আক্তার বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি শিশুদের খেলাধুলার সঙ্গে পরিচিত হওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের আয়োজন তাদের জন্য আনন্দের পাশাপাশি নতুন অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করে।
খেলার নিয়মকানুন সম্পর্কে সবার সমান ধারণা না থাকলেও শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসে তার কোনো প্রভাব পড়েনি। উইকেট পড়লে চিৎকার আর ভালো শটে হাততালি—সব মিলিয়ে স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে তাদের উপস্থিতি তৈরি করেছে অন্য রকম পরিবেশ। শ্রেণিকক্ষের বাইরে ক্রিকেট মাঠে কাটানো দিনটি তাদের কাছে হয়ে উঠেছে স্মরণীয় এক শিক্ষাসফর।




