ইরানের পরমাণু কর্মসূচির তথ্য দিলে ২০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার জন্য ২০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পুরস্কার ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস কর্মসূচি এক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় এ পুরস্কারের কথা জানায়।
ঘোষণায় বলা হয়, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি, সম্পদ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য থাকলে তা সিগন্যাল অথবা টর-ভিত্তিক টিপ লাইনের মাধ্যমে পাঠানো যাবে। তথ্যদাতা পুরস্কার ও স্থানান্তরের সুযোগ পেতে পারেন।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানায়, তারা পরমাণু বিজ্ঞানী ও কর্মী, পরমাণু কর্মসূচি-সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি ও সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কর্মীদের বিষয়ে তথ্য চাইছে।
সংস্থাটি আরও বলে, ইরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির যেকোনো প্রচেষ্টা ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে।
এই ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক হামলার কথা ভাবছেন। অন্যদিকে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দেশটির পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছে।
শুক্রবার ট্রাম্প আবারও বলেন, ইরানকে কখনোই পরমাণু অস্ত্র পেতে দেওয়া হবে না। তিনি তেহরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোতে আগের মার্কিন সামরিক অভিযানগুলোর দিকে ইঙ্গিত করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্ট তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠক করেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর পর্যন্ত অপেক্ষা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ইরানে নতুন করে হামলা শুরুর বিষয়টি নিয়ে ওই বৈঠকে আলোচনা হয়।
মার্কিন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ফক্স নিউজকে জানান, ৯ নভেম্বর মধ্যপ্রাচ্যে অমাবস্যা পড়ছে, অর্থাৎ চাঁদের আলো প্রায় থাকবে না। সামরিক অভিযানের জন্য এই অবস্থা অনুকূল বলে ধরা হয়।
বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ আবার শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে ওয়াশিংটন সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে এবং তা আর কখনো ফিরবে না—এটা নিশ্চিত করতে কি আরও এগিয়ে যাওয়া উচিত?
ট্রাম্প আরও বলেন, সম্ভব হলে তিনি দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না, তবে হয়তো তাঁকে তা করতেই হবে। শিগগিরই সবাই তা জানতে পারবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড ইরানে বড় ধরনের অভিযান আবার শুরুর প্রস্তুতি চূড়ান্ত করছে। তবে ওয়াশিংটন থেকে এখনো নতুন কোনো নির্দেশনা পায়নি তারা।



