শিশু নির্যাতনের ছবি রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেল
ব্রিটিশ প্রিন্স হ্যারির স্ত্রী মেগান মার্কেলের বাবা থমাস মার্কেল সিনিয়রকে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত ছবি ও ভিডিও রাখার অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্য থেকে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) তথ্য সূত্রে শনিবার ৭ নভেম্বর জানা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় থমাস মার্কেলের ভাড়া নেওয়া দুটি স্টোরেজ ইউনিটে তল্লাশি চালিয়ে তার সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের যৌন উত্তেজক ছবি পাওয়া গেছে। প্রায় দুই দশক ধরে তিনি ওই স্টোরেজ ইউনিট দুটি ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করছিলেন।
এফবিআইয়ের পরিচালক কাশ প্যাটেল বৃহস্পতিবার বলেন, থমাস মার্কেল নিরীহ শিশুদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছিলেন এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাদের শৈশব ও নিষ্পাপত্ব কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিচার বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত অক্টোবর মাসে ফিলিপাইনে থমাস মার্কেলের জিনিসপত্রের মধ্যে শিশুদের যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত উপাদান পাওয়ার দাবি করে এক ব্যক্তি হলফনামা জমা দেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরেক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানতে পারে, ২০০৮ সাল থেকে লস অ্যাঞ্জেলেসের কাছে একটি স্টোরেজ ইউনিট ভাড়া নিয়ে আসছিলেন ৮২ বছর বয়সী থমাস।
প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে দ্বিতীয় একটি স্টোরেজ ইউনিটের সন্ধানও পান তদন্তকারীরা। পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে এফবিআইয়ের কর্মকর্তারা ইউনিট দুটিতে তল্লাশি চালান। সেখানে ছবি, ফিল্ম নেগেটিভ ও বইসহ মোট ৭৮টি উপাদান পাওয়া যায়। এসবের মধ্যে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের সঙ্গে থমাসের যৌন উত্তেজক দৃশ্যের ছবি ছিল বলে জানিয়েছে বিচার বিভাগ।
মামলার হলফনামায় তিনটি ছবির বিবরণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ছবিতে এক ব্যক্তিকে নগ্ন অবস্থায় অপ্রাপ্তবয়স্ক একটি মেয়ের সঙ্গে দেখা যায়। একজন প্রত্যক্ষদর্শী ওই ব্যক্তিকে থমাস হিসেবে শনাক্ত করেছেন। তৃতীয় ছবিতে ফিলিপাইনের একটি হোটেলকক্ষের মতো জায়গায় নগ্ন এক অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েকে দেখা গেছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অবস্থায় পোশাক খোলা শিশুদের সঙ্গে থমাসের ছবি পাওয়ার কথাও হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে ফিলিপাইনে বসবাস করছিলেন থমাস মার্কেল। সেখানে স্ট্রোক করার পর তার বাম পা কেটে ফেলতে হয়। পরে তাকে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যেতে হয়।
বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে গত অক্টোবরে নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন মেগান মার্কেল। তিনি জানান, ২০১৮ সালে প্রথমবার বাবার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগের কথা জানতে পারেন। তখন তার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের একটি ইউনিটে অভিযোগের বিস্তারিত জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছিল।
বিবৃতিতে মেগান বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রকাশ্যে আসা খবর তাকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। যেসব শিশু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকতে পারে, তাদের কথা ভেবে তিনি মর্মাহত।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বিষয়টি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করলেও বাবার সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখা এবং নিজের সন্তানদের তার সংস্পর্শে যেতে না দেওয়ার পেছনে একটাই কারণ ছিল, তা হলো সন্তানদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এদিকে, শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনসংক্রান্ত মামলাগুলোর তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া পরিচালনা নিয়ে এমনিতেই সমালোচনার মুখে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। বিশেষ করে দণ্ডিত যৌন পাচারকারী জেফরি এপস্টেইনকে ঘিরে তদন্তের নথি প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সমালোচনা হচ্ছে।
এর আগে এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে সৃষ্ট বিতর্ক থেকে রাজপরিবারকে রক্ষা করতে গত বছর প্রিন্স অ্যান্ড্রুর রাজকীয় উপাধি কেড়ে নেন রাজা তৃতীয় চার্লস।
এদিকে, মেগান, প্রিন্স হ্যারি এবং তাদের দুই সন্তান প্রিন্স আর্চি ও প্রিন্সেস লিলিবেট গত আগস্টে যুক্তরাজ্যে ফিরে যান।
শুক্রবার ফ্লোরিডার একটি আদালতে থমাস মার্কেলের হাজির হওয়ার কথা রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কারাগারে তার সর্বোচ্চ ২০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির বিচার বিভাগ।

