প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট পদে শপথ নিলেন পেদ্রো আলিয়ানা, গৃহবন্দী সাবেক প্রেসিডেন্ট পেনিয়া

তিন বছর ভাইস প্রেসিডেন্ট থাকার পর শুক্রবার হঠাৎ করেই প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে এলেন পেদ্রো আলিয়ানা। প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়ার অভিশংসনের পর তিনি শপথ নিলেন।
দেশটি এখন রাজনৈতিক ও আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। এই সপ্তাহে উয়েনো ব্যাংক ধসে পড়ায় দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার অর্ধেকের সঞ্চয় জমে গেছে।
দায়িত্ব নেওয়ার পর ৫২ বছর বয়সী আলিয়ানা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, ২০২৮ সালের আগস্টে তাঁর মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তিনি এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করবেন।
এদিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট পেনিয়াকে রাজধানী আসুনসিওনে গৃহবন্দী করা হয়েছে। কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, বিশ্বাসভঙ্গ, প্রভাব খাটানো ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে শনিবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যারাগুয়ে নদীর তীরে পিলার শহরে জন্ম আলিয়ানার। সাবেক প্রেসিডেন্ট ওরাসিও কার্তেসের সমর্থনে তিনি রাজনৈতিক জীবন গড়ে তোলেন। কার্তেস ক্ষমতাসীন কলোরাডো পার্টির নেতা এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
রাজনীতিতে আসার আগে তিনি ব্যবসা করেছেন এবং বাস্কেটবল খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি প্যারাগুয়ের জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন। তাঁর বাবা-মা দুজনেই স্থানীয় কাউন্সিলর ছিলেন।
রাজনীতিতে তাঁর প্রথম চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছিল। ২০০৬ সালে ৩২ বছর বয়সে নিজ শহরের মেয়র পদে লড়ে তিনি হেরে যান। তবে দুই বছর পর দক্ষিণের নেমবুকু বিভাগের গভর্নর নির্বাচিত হন তিনি।
পরে তিনি ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত চেম্বার অব ডেপুটিজের সদস্য ছিলেন, নিম্নকক্ষের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং পরে কলোরাডো পার্টির নেতৃত্ব দেন।
২০২১ সালে তিনি সিনেটে লড়ার কথা ভাবছিলেন, কিন্তু কার্তেস তাঁকে জানান, তিনি পেনিয়ার রানিং মেট হবেন। পেনিয়া একসময় বলেছিলেন, আলিয়ানা হতে পারেন 'প্যারাগুয়ের ইতিহাসের সেরা ভাইস প্রেসিডেন্ট'।
জনপ্রশাসনে আত্মীয়দের নিয়োগ নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন আলিয়ানা। তাঁর বড় মেয়ে মন্টসেরাতও সরকারি পদে রয়েছেন। চার সন্তানের বাবা আলিয়ানার স্ত্রী ফাবিয়ানা সৌতো একজন কংগ্রেসওম্যান।
প্রেসিডেন্ট হওয়ার ইচ্ছা তিনি লুকাননি। ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার এক বছর পর তিনি প্রকাশ্যে জানান, একদিন শীর্ষ পদে যেতে চান। ২০২৫ সালে কার্তেস প্রকাশ্যে তাঁর প্রার্থিতা সমর্থন করেন এবং কলোরাডো পার্টির এক অনুষ্ঠানে বলেন, 'পেদ্রো, তুমি ধন্য', আর সমর্থকদের তাঁকে 'প্রজাতন্ত্রের পরবর্তী প্রেসিডেন্ট' হিসেবে সমর্থন করতে বলেন। পরে দুজনের সম্পর্ক ভেঙে যায় এবং কার্তেস সমর্থন তুলে নেন। ২৬ অক্টোবর আলিয়ানা বলেন, আনুগত্যকে 'অন্ধ আনুগত্যের' সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। শেষ পর্যন্ত আইনপ্রণেতারা পেনিয়াকে অভিশংসিত করলেও আলিয়ানার বিরুদ্ধে কার্যক্রমের প্রস্তাব বাতিল করেন, আর এভাবেই তাঁর ভাগ্য বদলে যায়।


