শীতের ঝড়ে গাজার হাজারো তাঁবু ভাসল পানিতে, বিপাকে লাখো বাস্তুচ্যুত মানুষ
ভারী বৃষ্টিতে গাজা উপত্যকা জুড়ে হাজারো তাঁবু পানিতে ভেসে গেছে। শীত মৌসুমের প্রথম ঝড় আঘাত হানার পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো ঠান্ডার মধ্যে খোলা আকাশের নিচে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।
গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, শনিবার ভোরে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর মাত্র ১০ ঘণ্টায় তারা প্রায় দেড় হাজার দুর্দশার ফোন পেয়েছে। কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্রে পানির উচ্চতা ৩০ থেকে ৪০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত উঠেছে।
বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার মুখপাত্র মাহমুদ বাসাল বলেন, “আমরা যা ভয় পাচ্ছিলাম, ঠিক তাই ঘটেছে।” তার ভাষায়, কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পুরোপুরি পানিতে ডুবে গেছে, ভেতরে থাকা সবাই এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে বাইরে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছে।
বাসাল বলেন, অকালজাত শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। তার ভাষায়, “তাঁবুতে বসবাসকারীরা যেকোনো মুহূর্তে মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে, যেকোনো মুহূর্তে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।”
ঝড়ে যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনও ধসে পড়েছে। মধ্য গাজার নুসেইরাত এলাকায় একটি ভবন আংশিক ধসে পড়লে উদ্ধারকর্মীরা সেখানকার বাসিন্দাদের সরিয়ে নেন। উত্তর গাজায় ভারী বৃষ্টিতে একটি ভবনের দেয়াল ধসে দুজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওয়াফা বার্তা সংস্থা।
গাজা সিটি, খান ইউনিস ও দেইর আল-বালাহের শিবির থেকে আসা ভিডিওতে দেখা গেছে, পরিবারগুলো গোড়ালি পর্যন্ত পানিতে হাঁটছে, বিছানা ও কম্বল ভিজে গেছে, শিশুরা কাদা ও নর্দমার পানিতে খালি পায়ে দাঁড়িয়ে আছে।
গাজা সিটির একটি শিবির থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক নূর খালেদ বলেন, “এই বৃষ্টির সামনে বাড়িও টিকতে পারে না, তাহলে খোলা প্লাস্টিকের চাদর কীভাবে টিকবে?” তিনি জানান, ২৮ হাজারের বেশি বিধবা নারী সন্তানদের নিয়ে একাই শীতের মুখোমুখি হচ্ছেন।
দক্ষিণ গাজার আল-মাওয়াসি উপকূলীয় এলাকায় ৯ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে শুক্রবার রাত ১০টা থেকে বৃষ্টি পড়ছে বলে খান ইউনিস থেকে জানিয়েছেন আল জাজিরার রামি আবু তাইমা।
তার ভাষায়, “মানুষ জেগে দেখল, গাজা উপত্যকা জুড়ে শত শত, এমনকি হাজার হাজার তাঁবু পানিতে ডুবে গেছে।” উপকূলের পাশে বসবাসরত ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি পরিবার তাঁবু সমুদ্রে ভেসে যাওয়ার বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
গাজার জরুরি কমিটি জানিয়েছে, ১০ লাখের বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষ শীতের বিপদের মুখে রয়েছে এবং অঞ্চলটিতে জরুরি ভিত্তিতে প্রায় ২ লাখ তাঁবু ও গরমের সরঞ্জাম প্রয়োজন।
গাজা গভর্নরেটের বেসামরিক প্রতিরক্ষা পরিচালক রায়েদ আল-দাহশান আল জাজিরাকে বলেন, পানিতে ডুবে যাওয়া পরিবারের কাছে পৌঁছানোর পর উদ্ধারকর্মীদের করার মতো বিশেষ কিছু থাকে না। তার ভাষায়, “বেসামরিক প্রতিরক্ষার কাছে একটি ত্রিপল কিংবা একটি তাঁবুও নেই। আমরা শুধু প্রাণ বাঁচানোর কাজ করি, আর তা যথেষ্ট নয়।”
ত্রাণ সংস্থাগুলো আশ্রয় সামগ্রী প্রবেশে ইসরায়েলি বিধিনিষেধকে দায়ী করছে। ফিলিস্তিনি এনজিও নেটওয়ার্কের পরিচালক মোহাম্মদ সালহা আল জাজিরাকে বলেন, প্রতিদিন মাত্র ১৮০ থেকে ২০০টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করছে, যেখানে মানবিক প্রটোকলে সম্মত সংখ্যা ৬০০; আর এর মধ্যে মাত্র প্রায় ৪০টি মানবিক সহায়তা বহন করছে। তিনি জানান, মিসর সীমান্তের ওপারে ৫০ হাজার তাঁবু অপেক্ষায় রয়েছে। ইসরায়েলকে আরও সরবরাহের অনুমতি দিতে আন্তর্জাতিক চাপকে তিনি “দুর্বল” বলে বর্ণনা করেন।

