রাতভর রুশ হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত, কিয়েভে বিদ্যুৎ-পানি-তাপ বন্ধ

রাতভর ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এতে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং পানি সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
জেলেনস্কি জানান, ১২টি অঞ্চলে হামলা হয়েছে, যার মধ্যে রাজধানী কিয়েভ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সারা দেশে অন্তত নয়জন আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে।
এই হামলায় ৩০টির বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৭০টির বেশি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জেলেনস্কি বলেন, মস্কো এই হামলা চালিয়ে আসন্ন আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী সপ্তাহে আবুধাবিতে ইউক্রেন ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদল ত্রিপক্ষীয় আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, 'রাজধানীর পরিস্থিতি কঠিন, বিদ্যুৎ, পানি ও তাপ সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে। আবাসিক ভবন, নর্থ ব্রিজ এবং একটি কিন্ডারগার্টেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।'
কিয়েভ অঞ্চলে রিভনে ও খমেলনিতস্কি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে কিয়েভ ও মধ্য ইউক্রেনের সঙ্গে সংযুক্তকারী সাবস্টেশনগুলোতেও হামলা হয়েছে বলে জানান জেলেনস্কি।
কিয়েভের বাইরে ভিনিৎসিয়া, ঝিতোমির, রিভনে, খারকিভ ও দনিপ্রো অঞ্চলে সাবস্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি জানান।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো তাঁর সর্বশেষ হালনাগাদে জানান, শহরের পানি সরবরাহ ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিকভাবে চলছে। তিনি আরও জানান, শহরের প্রায় ৬০ শতাংশ অ্যাপার্টমেন্ট ভবন তাপ সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত হয়েছে।
দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী দেনিস শমিহাল জানান, পাঁচটি অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। তবে কতগুলো বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা তিনি বলেননি।
এদিকে ইউক্রেনে শীত নামতে শুরু করেছে এবং দেশের কিছু অংশে বছরের প্রথম তুষারপাত হয়েছে।
এই হামলার আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে রাশিয়া ও ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলকে আতিথ্য দেন। তিনি দক্ষিণাঞ্চলের খেরসন অঞ্চলে গত সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির পর আরও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান।
রাশিয়া-অধিকৃত ইউক্রেনীয় শহর ওলেশকিতে ছয় দিনের যুদ্ধবিরতির সময় অনাহার ও ক্রমাগত বোমাবর্ষণের মুখে থাকা শত শত বাসিন্দা সরে যেতে পেরেছিলেন। মস্কো ও কিয়েভ উভয়েই এই যুদ্ধবিরতির কৃতিত্ব ট্রাম্পকে দিয়েছে। মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, 'নিরীহ মানুষের জীবন যুদ্ধের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠতে হবে। আমি আশা করি ওলেশকি আরও বেশি শান্তির অনুপ্রেরণা দেবে।'
এর আগে এই সপ্তাহে জাপোরিঝিয়ার কাছে একটি ত্রাণকেন্দ্রে গ্লাইড বোমা হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হন। ধ্বংসস্তূপের গভীরে অনুসন্ধান চলতে থাকায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
শনিবারের হামলার পর টেলিগ্রামে দেওয়া বার্তায় জেলেনস্কি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও দ্বিপক্ষীয় সহায়তার ওপর ভরসা করছে ইউক্রেন। তিনি লেখেন, 'নিরাপত্তা, ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন, রুশ আগ্রাসনের নিন্দা এবং পুতিনের ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়ানোর বিষয়ে উভয় দলের ঐক্যের ওপর আমরা ভরসা করছি।'
তিনি আরও বলেন, 'শান্তি আরও কাছে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউক্রেনকে সমর্থনে দৃঢ়তা ও ধারাবাহিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।'
এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে আগামী বছর যুক্তরাজ্যে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানানো হবে বলে যে খবর বেরিয়েছে, সে বিষয়ে জেলেনস্কির মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে চাননি।


