ভূগর্ভে অস্ত্র তৈরির স্থাপনা গড়ছে ইরান, জানাল আইআরজিসি
ভারী বোমাবর্ষণের মধ্যেও ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ও মজুত চালিয়ে যাওয়া যায় — এমন ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা গড়ে তুলছে ইরান। দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি সামরিক সক্ষমতা নিয়ে একাধিক ঘোষণা দেন। ইরানি সংবাদমাধ্যম এ খবর জানিয়েছে।
আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, শিগগিরই একটি ‘ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র শহর’ উন্মোচন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
মোহেব্বি বলেন, আইআরজিসি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎপাদন লাইন দ্রুত ভূপৃষ্ঠ থেকে ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সরিয়ে নিয়েছে। এতে প্রতিপক্ষ মজুত ফুরিয়ে যাচ্ছে ভাবলেও উৎপাদন চলতে থাকবে।
স্টেলথ প্রযুক্তিতে অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর দাবি, এ অগ্রগতির ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে আগের লড়াইয়ে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আকাশ প্রতিরক্ষা ভেদ করে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পেরেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা মোহেব্বিকে উদ্ধৃত করে জানায়, ‘আজ আইআরজিসি মহাকাশ বাহিনীর ব্যবহৃত প্রতিটি অস্ত্র দেশীয় জ্ঞান ও দক্ষতায় তৈরি। আমাদের পণ্য শত্রুর দখল করা যুদ্ধসামগ্রী উল্টে তৈরি করা হয়নি।’
মার্কিন সংবাদপত্র ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের লড়াইয়ে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান কোটি কোটি ডলারের ক্ষতি করেছে।
এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের পৃথক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, একই সময়ে ইরান উপসাগরীয় অবকাঠামোতে অন্তত ১৩৫ বার হামলা চালিয়েছে, যাতে ক্ষতি ও রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ কোটি কোটি ডলার।
মোহেব্বি শনিবার আরও সতর্ক করে বলেন, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লার ওপর আরোপিত সীমাবদ্ধতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এর আগে সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, আবার আক্রমণ করা হলে ইরানের জবাবের কোনো ভৌগোলিক সীমা থাকবে না।
মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধ শুরু হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি। এর জেরে তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয়। যুদ্ধ থামাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা সম্প্রতি জোরদার হয়েছে।
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের কেশম দ্বীপে সীমিত হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় ‘অনেক অগ্রগতি’ হয়েছে।
তেহরান বারবার সতর্ক করেছে, লড়াই আবার শুরু হলে উপসাগরীয় জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করা হবে। এ ধরনের হামলা জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ইরানকে তাদের দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতেই এ পদক্ষেপ। নিষেধাজ্ঞায় দেশটির অর্থনীতি আরও চাপে পড়ায় নতুন বাণিজ্য রুট নিতে বাধ্য হয়েছে ইরান।
শনিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, স্থলপথে উন্নত অস্ত্র ও উপকরণ পরিবহন ঠেকাতে নতুন একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করা হচ্ছে। ইরানের তেল রপ্তানি ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধও আরোপ করেছে।

