সৌদিতে নিহত ৭ বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ, একই পরিবারের চারজন

সৌদি আরবের মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাত বাংলাদেশির পরিচয় প্রকাশ করেছে জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন রয়েছেন। এ ছাড়া দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয় বাংলাদেশি। হতাহত ব্যক্তিদের সবার গ্রামের বাড়ি কক্সবাজার জেলায়।
শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে সৌদি আরবের আল-হিমনা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। মদিনা থেকে জেদ্দায় ফেরার পথে তিনটি পরিবারের ১৩ সদস্যকে বহনকারী একটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে সাতজন নিহত ও ছয়জন আহত হন। জেদ্দায় বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল থেকে পাঠানো এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
কনস্যুলেটের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তিরা হলেন—জিয়াউর রহমান, তাঁর মেয়ে বুশরা, দুই ছেলে ইয়াসির ও ইয়াযান; আলম শাহের স্ত্রী সানজিদা ও মেয়ে ফারিয়া এবং ইলিয়াসের স্ত্রী আফসানা বিবি। তাঁদের মধ্যে জিয়াউর রহমানের পরিবারের চারজনই প্রাণ হারিয়েছেন। নিহত ব্যক্তিদের মরদেহ আল-হিমনা জেনারেল হাসপাতাল ও খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা হলেন—জিয়াউর রহমানের স্ত্রী শাকিরা ও মেয়ে ইউসরা, আলম শাহ ও তাঁর ছেলে ফয়সাল, ইলিয়াস এবং গফুর আলম। তাঁদের মধ্যে শাকিরা খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে, ইউসরা জেদ্দার কিং আবদুল আজিজ হাসপাতালে এবং ফয়সাল ইস্ট জেদ্দা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, আলম শাহ ও ইলিয়াস আল-হিমনা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। গফুর আলম খোলাইস জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার পরপরই কনস্যুলেট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি কনস্যুলেটের কাউন্সেলর (শ্রম) একজন আইন সহকারীকে সঙ্গে নিয়ে খোলাইস ট্রাফিক অফিসে যান। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দুর্ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
কনস্যুলেটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি চালাচ্ছিলেন একজন পাকিস্তানি নাগরিক। দুর্ঘটনার সময় গাড়িটির গতি ঘণ্টায় আনুমানিক ১৬০ কিলোমিটার ছিল বলে ট্রাফিক অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাঁদের প্রাথমিক ধারণা, অতিরিক্ত গতির কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি উল্টে যায়। তবে চালকের দাবি, গাড়ির টায়ার ফেটে যাওয়ার কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সৌদি কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে কনস্যুলেট।
কনস্যুলেটের প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, নিহত আফসানা বিবি কয়েক দিন আগে পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় হতাহত তিন পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চারজন আল-আবির কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন। কোম্পানিটির মক্কা শাখার ব্যবস্থাপক সালমানের কাছ থেকে কনস্যুলেট এ তথ্য পেয়েছে।
তিনটি পরিবারের ১৩ জন একই গাড়িতে মদিনা থেকে জেদ্দার দিকে যাচ্ছিলেন। গভীর রাতে আল-হিমনা এলাকায় গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। কনস্যুলেটের প্রাথমিক প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার সময়, স্থান ও হতাহতদের পরিচয়ের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হয়েছে।
নিহতদের মরদেহ দুটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আহতদের মধ্যে তিনজন জেদ্দা ও খোলাইসের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, আর দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। কনস্যুলেট জানিয়েছে, আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে চালকের দাবি ও ট্রাফিক অফিসের প্রাথমিক ধারণার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ট্রাফিক কর্মকর্তারা অতিরিক্ত গতিকে কারণ হিসেবে দেখছেন, আর চালক টায়ার ফেটে যাওয়ার কথা বলছেন। সৌদি কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে কনস্যুলেট জানিয়েছে।


