ব্যাংক কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত প্যারাগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট পেনিয়া, গৃহবন্দী থেকে বিচারের মুখে
প্যারাগুয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। উয়েনো ব্যাংকের ধস নিয়ে তাঁকে অভিশংসনের এক দিন পর রাজধানী আসুনসিওনে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সকালটা কাটানোর পর তাঁর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ আনা হয়।
রয়টার্স জানিয়েছে, পেনিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গ ও ব্যক্তিগত লাভের জন্য প্রশাসন পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে। শুক্রবার থেকে তিনি গৃহবন্দী রয়েছেন। শনিবার অভিযোগ ঘোষণার পর কৌঁসুলিরা পেনিয়া ও কারভালো—দুজনেরই বিচারপূর্ব আটক চাইছেন।
কেলেঙ্কারির কেন্দ্রে রয়েছে পেনিয়ার সঙ্গে উয়েনো ব্যাংকের সম্পর্ক। তাঁর প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ডিজিটাল ব্যাংকটি দ্রুত বেড়ে ওঠে, আংশিকভাবে ৮০ কোটি ডলারের বেশি সরকারি তহবিল ঢোকানোর মাধ্যমে। ব্যাংকটির ধসের পর প্রায় ৩০ লাখ মানুষ তাদের সঞ্চয় তুলতে বা ব্যাংক কার্ড ব্যবহার করতে পারছেন না।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা মঙ্গলবার ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসে। এরপর থেকে প্যারাগুয়ে জুড়ে দিনের পর দিন বিক্ষোভ চলছে। হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে তাদের সঞ্চয় ফেরতের দাবি জানাচ্ছেন। কিছু বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠেছে, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে।
প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংক শনিবার জানিয়েছে, ১২ লাখ গ্রাহক ইতিমধ্যে তাদের বীমাকৃত আমানতের আংশিক বা পুরো অর্থ ফেরত পেয়েছেন। তবে এতে জনরোষ কমেনি, কারণ অনেকেই এখনো তাদের টাকা ফেরতের অপেক্ষায় রয়েছেন।
পেনিয়া ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত উয়েনোর মূল কোম্পানিতে অংশীদারিত্ব ধরে রেখেছিলেন। তিনি কোনো অনিয়মের কথা অস্বীকার করে বলেছেন, ব্যাংকের সমস্যা ছিল নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিষয়।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগের মধ্যে রয়েছে, তিনি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে শত শত কোটি ডলারের সরকারি তহবিল উয়েনোতে ঢুকিয়েছেন এবং ব্যাংকটির ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ বাড়লেও নিয়ন্ত্রক তদারকি থেকে ব্যাংকটিকে আড়াল করেছেন।
আরও অভিযোগ রয়েছে, তিনি ২০২৩ সালে কার্লোস কারভালোকে প্যারাগুয়ের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। কারভালো আগে এমন একটি কোম্পানির নির্বাহী ছিলেন, যেটি পরে উয়েনোতে রূপ নেয়। শনিবার কারভালোর বিরুদ্ধেও বিশ্বাসভঙ্গ, মিথ্যা সরকারি নথি তৈরি এবং ব্যক্তিগত লাভের জন্য প্রশাসন পরিচালনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পেনিয়ার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি প্যারাগুয়ের রাষ্ট্রীয় পেনশন তহবিলের ৩৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার আইনি সীমার বেশি পরিমাণে উয়েনোতে জমা রাখতে দিয়েছেন।
পেনিয়া বৃহস্পতিবার পদত্যাগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু আইনপ্রণেতারা তা প্রত্যাখ্যান করে অভিশংসন প্রক্রিয়া চালিয়ে যান, যাতে পদত্যাগ করলে তিনি যে রাজনৈতিক দায়মুক্তি পেতেন, তা না পান। পদ থেকে অপসারণের কিছুক্ষণ পর তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।
পেনিয়ার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন পেদ্রো আলিয়ানা। তিনি একই রক্ষণশীল কলোরাডো পার্টির সদস্য এবং শুক্রবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন। তিনিও ব্যাংক ধসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্তের মুখে রয়েছেন। আলিয়ানা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার অঙ্গীকার করেছেন।
তবে অনেক গ্রাহক এখনো তাদের টাকা ফেরত পাননি। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ আলিয়ানার প্রতিও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ব্যাংক ধসের জেরে দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিরতা অব্যাহত রয়েছে।

