সানার গ্রামে হামলায় নিহত ২৭, মারিবে হুথিদের ঠেকানোর দাবি ইয়েমেন সরকারের
ইয়েমেনের সানা প্রদেশের একটি গ্রামে হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। হুথি পরিচালিত সাবা সংবাদ সংস্থা শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
সানাভিত্তিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি জানান, রাজধানীর উত্তরে আল-শারিয়া গ্রামে হামলা হয়েছে। তিনি বলেন, হতাহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী—আনসার আল্লাহ নামেও পরিচিত—এই হামলার জন্য ইয়েমেনের সরকারকে সমর্থনকারী সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে দায়ী করেছে। গোষ্ঠীর সর্বোচ্চ রাজনৈতিক পরিষদের সভাপতি ফিল্ড মার্শাল মাহদি আল-মাশাত হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
তবে সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকার এই হামলা নিয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। আল জাজিরা জানিয়েছে, তারা এই দাবিগুলো স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করতে পারেনি।
একই দিন ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানায়, মারিব প্রদেশে হুথিদের হামলা প্রতিহত করা হয়েছে। সরকারি বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের সহায়তায় কয়েক ঘণ্টা ধরে লড়াই করে হুথিদের অগ্রযাত্রা থামানো হয়েছে এবং তাদের দুর্গ ও যুদ্ধসরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।
সরকারি বাহিনী আরও জানায়, তাদের সেনারা আল-জাওফ প্রদেশের হুথি-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে টানা তৃতীয় দিন ধরে লড়াই চলছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের এক মাসেরও বেশি আগে শুরু করা ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযানের অংশ হিসেবে এই লড়াই চলছে।
সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নাজিলি এক পৃথক বিবৃতিতে বলেন, শনিবার সেনাবাহিনী হুথি অবস্থানগুলোতে ৮৭৫টি হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, এতে প্রায় ১৩০ হুথি কমান্ডার ও যোদ্ধা নিহত হয়েছেন এবং ৫০টি যানবাহন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে।
এই ঘটনার একদিন আগে তাইজের একটি বাজারে হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় হুথি ও ইয়েমেন সরকার একে অপরকে দোষারোপ করেছিল। সানা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি জানান, গত দুই দিনে বেসামরিক নিহতের সংখ্যা ৫৫ বলে দাবি করেছে হুথিরা এবং তারা সৌদি বিমান হামলাকে দায়ী করেছে, অন্যদিকে সরকারি কর্মকর্তারা বেশিরভাগ হতাহতের জন্য হুথিদের দায়ী করেছেন।
মাওরি বলেন, দুটি পক্ষ একে অপরকে দোষারোপ করছে, আর এর মূল্য দিচ্ছেন বেসামরিক মানুষ।
লড়াই চলার মধ্যেই হুথিরা সৌদি লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে ছয়টি হামলা চালানোর দাবি করেছে। তারা জানায়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা, খুরাইসের তেলক্ষেত্র, দাওয়াদমির তেল পাম্পিং স্টেশন, নাজরানের ন্যাশনাল গার্ড শিবির এবং আল-জাওফ ও মারিবে সৌদি সেনা সমাবেশকে লক্ষ্য করা হয়েছে। তবে কখন এসব হামলা চালানো হয়েছে, তা তারা জানায়নি।
সৌদি-সমর্থিত জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালকি শনিবার ভোরে জানান, রিয়াদ অঞ্চলের আকাশে একটি হুথি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে।

