জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে গণতান্ত্রিক উত্তরণই জাতীয় জীবনের পথপ্রদর্শক, বললেন আনসার মহাপরিচালক
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সূচিত গণতান্ত্রিক উত্তরণ জাতীয় জীবনে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
শনিবার (৭ নভেম্বর) জাতীয় ঐক্য, দেশপ্রেম, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চেতনায় জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে সদর দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ, দরবার এবং দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানেই এসব কথা বলেন তিনি।
মহাপরিচালক বলেন, ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের ইতিহাসে জাতীয় ঐক্য, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুরক্ষা এবং সম্মিলিত আত্মজাগরণের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় সৃষ্ট সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ণ রাখার প্রত্যয় থেকে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার সম্মিলিত সংহতির প্রকাশ ঘটেছিল।
তাঁর মতে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় এবং জাতীয় ঐক্যের চেতনা বিকশিত হয়েছিল, যা জাতীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ তাৎপর্য বহন করে। একই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান জনগণের অধিকার ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষাকে নবজীবন দিয়েছে।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’ বা গণপ্রতিরক্ষা দর্শনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) জনগণের অংশগ্রহণমূলক প্রতিরক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কাঠামো।
এই দর্শনের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্য দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে নগরজীবন পর্যন্ত জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক শৃঙ্খলা, দুর্যোগ মোকাবিলা, মানবিক সহায়তা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন বলে জানান তিনি।
বাহিনীর উন্নয়ন ও সদস্যকল্যাণ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, প্রশিক্ষণ, দক্ষতা, প্রযুক্তির ব্যবহার ও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ক্রমাগত এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে-বিদেশে বাহিনীর প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুনাম অর্জন করছে, যার মাধ্যমে সদস্যদের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষ করে ভিডিপি সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন, আর্থিক স্বাবলম্বিতা ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এ দূরদর্শী উদ্যোগ বাস্তবায়নে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ব্যাংকটির প্রাতিষ্ঠানিক বিকাশ ও কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ভূমিকা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
এ সময় বাহিনীর ভিত্তি সুসংহতকরণ ও ক্রমবর্ধমান অগ্রযাত্রায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।
৭ নভেম্বরের জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনা এবং প্রধানমন্ত্রীর ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রত্যয়কে ধারণ করার আহ্বান জানিয়ে মহাপরিচালক বলেন, জাতীয় স্বার্থ, জননিরাপত্তা ও জনকল্যাণই হতে হবে সব কর্মকাণ্ডের মূল চালিকাশক্তি। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, নাশকতা ও উসকানি প্রতিহত করে শান্তি, শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিরপেক্ষতা, সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদসহ সদর দফতরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বাহিনীর সদস্য-সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



