নেতানিয়াহুকে পেছনে ফেলে সরকার গঠনের দায়িত্ব পেলেন গাদি আইজেনকোট

ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী গাদি আইজেনকোটকে দেশের পরবর্তী সরকার গঠনের দায়িত্ব দিয়েছেন। গত মাসের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি, আর এই সিদ্ধান্ত নেতানিয়াহুর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে—২৭টি। তবে আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির চেয়ে ছয়টি আসন বেশি পেলেও তা সরকার গঠনের জন্য যথেষ্ট হয়নি। ১২০ আসনের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে প্রয়োজন ৬১টি আসন।
প্রেসিডেন্ট হারজগ রোববার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় আইজেনকোটকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন।
গাদি আইজেনকোট ইসরায়েলের সাবেক সেনাপ্রধান। ২০১৫ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কয়েকটি সামরিক অভিযানে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর নেতানিয়াহুর জরুরি যুদ্ধকালীন মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন আইজেনকোট। তবে পরের বছর তিনি মন্ত্রিসভা ছেড়ে দেন। গাজা যুদ্ধ শেষ করা ও জিম্মিদের মুক্তি নিশ্চিত করতে নেতানিয়াহু ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।
যুদ্ধে আইজেনকোট ব্যক্তিগতভাবেও বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গাজায় তাঁর ছেলে গাল—একজন রিজার্ভ সেনা—নিহত হন। যুদ্ধে তাঁর দুই ভাগ্নেও মারা যান।
আইজেনকোট মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টির নেতা। দুর্নীতিবিরোধী ও সরকার সংস্কারের অঙ্গীকার নিয়ে তিনি দলটি গঠন করেছেন।
সরকার গঠনের জন্য আইজেনকোটের হাতে এখন ২৮ দিন সময় থাকবে। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিনের বাড়তি সময় পেতে পারেন তিনি। এই সময়ের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে তাঁকে ৬১ আসনের জোট গড়তে হবে।
আইজেনকোট ব্যর্থ হলে প্রেসিডেন্ট অন্য কোনো সংসদ সদস্যকে সরকার গঠনের সুযোগ দিতে পারেন। সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হলে ইসরায়েলে আবার নির্বাচন হতে পারে। এর মধ্যে নেতানিয়াহু তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বে থাকবেন।



