ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক সন্ধ্যায় নয় ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৩
রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক নয়টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বিস্ফোরণ ঘটে টিএসসি, প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন এলাকা, ভিসি চত্বর, নীলক্ষেতের মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে। এতে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এরপর টিএসসি এলাকায় পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। তারপর প্রশাসনিক ভবনের পাশে, ভিসি চত্বর এবং নীলক্ষেত সংলগ্ন মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের সামনে আরও কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এ ছাড়া জগন্নাথ হলের কাছাকাছি, শাহবাগ ও বাংলা একাডেমি এলাকাতেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানা গেছে।
সন্ধ্যা ৬টা ৪০ মিনিটে টিএসসি-সংলগ্ন মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ তাদের আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যায়।
আটককৃতরা হলেন রেজাউল করিম (৪২), সোহেল রানা (৩৩) ও নাজমুস সাদ (৩৩)। তাঁদের মধ্যে রেজাউল করিমের বাড়ি নাটোরের গুরুদাসপুরে, সোহেল রানার রাজশাহীর পুঠিয়ায় এবং নাজমুস সাদের গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিএসসি এলাকায় বিস্ফোরণের পর কয়েকজনকে পালিয়ে যেতে দেখে তাদের আটক করার চেষ্টা করেন শিক্ষার্থী ও উপস্থিত লোকজন। এ সময় তাদের মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় তিনজনকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ইসরাফিল রতন বলেন, ক্যাম্পাসে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে তাদের আটক করেন। পরে তাদের থানায় নেওয়া হয়েছে।
প্রক্টর আরও বলেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সাত থেকে নয়টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব ঘটনায় কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
বিস্ফোরণের পর ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে একটি সভাও করছেন তারা।
প্রক্টর বলেন, তাঁর ধারণা, ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। এর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বোঝাতে চাইছে, তারা চাইলে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে সচেতন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের থানায় নিয়ে অধিকতর তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রক্টর বলেন, আটক ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে এ ঘটনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
