প্রায় চার দশক পর আর্জেন্টিনায় পোপ, মিলেইয়ের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই সফর
প্রায় চার দশকে প্রথমবারের মতো কোনো পোপ আর্জেন্টিনা সফরে এসেছেন। রোববার বুয়েনস এইরেসের কাছে হোর্হে নিউবেরি বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই এবং তাঁর বোন ও প্রেসিডেন্সিয়াল সচিব কারিনা মিলেই ক্যাথলিক গির্জার প্রধান পোপ লিও চতুর্দশকে স্বাগত জানান।
আর্জেন্টিনায় আসার আগে পোপ লিও তিন দিন উরুগুয়েতে কাটিয়েছেন। সেটি ছিল তাঁর লাতিন আমেরিকা সফরের প্রথম ধাপ।
জন পল দ্বিতীয় ১৯৮৭ সালে আর্জেন্টিনা সফর করেছিলেন। তার পর এই প্রথম কোনো পোপ দেশটিতে এলেন।
আর্জেন্টিনায় পোপ লিওর কর্মসূচিতে রয়েছে প্লাজা সান মার্তিনে একটি স্বাগত অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এবং সরকারি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ কাসা রোসাদায় মিলেইয়ের সঙ্গে বৈঠক।
৭১ বছর বয়সী লিও প্রথম যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া পোপ। তিনি বুধবার পর্যন্ত আর্জেন্টিনায় থাকবেন এবং কর্মকর্তা, কূটনীতিক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করবেন।
এ ছাড়া তিনি একটি কারাগার পরিদর্শন করবেন এবং বুয়েনস এইরেস, লুহান ও কর্দোবা প্রদেশে গণপ্রার্থনা পরিচালনা করবেন। এরপর তিনি পেরুতে যাবেন, যেখানে তিনি বহু বছর বিশপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বুয়েনস এইরেস প্রদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আবাস পেকেনো কত্তোলেঙ্গো দন ওরিওনের ধর্মীয় পরিচালক হোর্হে সিলানেস বলেন, 'নিঃসন্দেহে এই পোপ আমাদের দেখতে আসছেন বলে আমরা খুব আনন্দিত।'
তবে পোপের এই সফর এমন এক সময়ে হচ্ছে, যখন সরকারের সঙ্গে আর্জেন্টিনার ক্যাথলিক গির্জার সম্পর্ক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গির্জা মিলেইয়ের কৃচ্ছ্রসাধন নীতির সমালোচনা করেছে, যার মধ্যে সামাজিক ব্যয় ও দরিদ্রদের জন্য নিরাপত্তা কর্মসূচি কাটছাঁট অন্তর্ভুক্ত।
মিলেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এই বাজেট কাটছাঁট প্রয়োজন বলে দাবি করেছেন। তবে ক্যাথলিক ধর্মযাজকদের কেউ কেউ মিলেইয়ের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে দৃশ্যমান ভূমিকা নিয়েছেন।
লাতিন আমেরিকায় ক্যাথলিক গির্জার সদস্য সংখ্যাও কমছে। এই অঞ্চলে প্রায় ৪২ কোটি ৫০ লাখ মানুষ নিজেদের গির্জার সঙ্গে যুক্ত বলে পরিচয় দেন। তবে গত এক দশকে তাঁদের সংখ্যা কমেছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, আর্জেন্টিনায় নিজেকে ক্যাথলিক বলে পরিচয় দেওয়া মানুষের হার ২০১৩–২০১৪ সালের ৭১ শতাংশ থেকে এক দশক পর ৫৮ শতাংশে নেমে এসেছে।
ক্যাথলিক পরিবারে বড় হলেও মিলেই নিজে ইহুদি ধর্মে ধর্মান্তরের কথা ভেবেছেন বলে জানিয়েছেন।
পোপ লিওর পূর্বসূরি ফ্রান্সিস ১৯৩৬ সালে বুয়েনস এইরেসে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন আমেরিকা মহাদেশের প্রথম পোপ, তবে গির্জার প্রধান হিসেবে তিনি কখনো নিজ দেশে যাননি। ফ্রান্সিস ২০২৫ সালে মারা যান।
মিলেইয়ের সঙ্গে ফ্রান্সিসের সম্পর্ক ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে তিক্ত। আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট প্রয়াত পোপকে 'কমিউনিস্ট' এবং 'সামাজিক ন্যায়বিচার রক্ষাকারী নির্বোধ' বলে অভিহিত করেছিলেন।
দরিদ্র সম্প্রদায়ের সঙ্গে কাজ করা রেভারেন্ড লরেঞ্জো 'তোতো' দে ভেদিয়া বলেন, 'লিও সেই সফরটি করতে যাচ্ছেন, যা ফ্রান্সিস কখনো করেননি।'

